কক্সবাজার, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪

অপরিকল্পিত উন্নয়ন: জলে ভাসছে কক্সবাজার

বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকে ভারী বর্ষণে কক্সবাজার শহরের ২ লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। শহরের রুমালিয়াছড়া পল্লানকাটা এবং ঝিলংজায় পাহাড় ধসে শিশু ও নারীসহ ৩ জন মারা গেছে ।

শহরের লিংক রোড, হাজিপাড়া, বিজিবি ক্যাম্প, আলিরজাহাল, রুমালিয়াছড়া, পিটিস্কুল, টেকপাড়া, পাহাড়তলী, বাহারছড়া, কলাতলী, কুতুবদিয়া পাড়ায় প্রায় দুই লাখেরও বেশি মানুষ জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়েছে।

দক্ষিণ বাহারছড়ার বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, ভোর থেকে পানি বন্দি হয়ে আছে পুরো এলাকা। প্রায় দুই ফুটের মতো পানি উঠে আছে প্রতিটি ঘরে। এভাবে মুষলধারে বৃষ্টি হলে পানির অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। এখনো পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি এলাকায় তাঁদের খোঁজ নেয়নি বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, শহরের পানি নিষ্কাশনের সমস্ত রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের জন্য। বড় বড় নালা এবং খাল ভরাট করে দখল করার ফলেই কক্সবাজারে আজকের এই জনদুর্ভোগ।

টুয়াকের সাধারণ সম্পাদক নুরুল করিম পাশা বলেন, সমস্ত হোটেল মোটেল জোনের প্রায় সব রাস্তা এখন দুই ফুট পানির নিচে যার জন্য ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয়দের পাশাপাশে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও। পানি নিষ্কাশনে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট আরো বাড়বে।

এই বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান মাবু বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয়দের এগিয়ে আসতে হবে। এবং এই সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে, একটু সময় দরকার বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার জেলায় গতকাল দুপুর ৩টা থেকে আজ দুপুর ৩টা পর্যন্ত ২৪৯ মি.মি বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মূলত, কক্সবাজারে গত ১৫ বছরে অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং স্থাপনা নির্মাণ সহ নালা, খাল, নদী ভরাট করে দখল করার ফলেই এই জলাবদ্ধতা বলে অভিমত স্থানীয়দের।

পাঠকের মতামত: