কক্সবাজার, রোববার, ৩ মার্চ ২০২৪

আজ নিজের পছন্দের আইসক্রিম খান, প্রিয়জনকে খাওয়ান

ছোট থেকে বড় সকলের অত্যন্ত পছন্দের একটি খাবার আইসক্রিম। শত মন খারাপের মাঝেও আইসক্রিমের মুখে দিলেই ভালো হয়ে ওঠে সকলের মন। সম্ভবত বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে লোভনীয় খাবারগুলোর একটি আইসক্রিম। এমন খাবারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর জুলাইয়ের তৃতীয় রোববার জাতীয় আইসক্রিম দিবস উদযাপন করে। সেই হিসাবে এ বছরের ১৬ জুলাই আইসক্রিম দিবস। যেহেতু আজ আইসক্রিম দিবস তাই পছন্দের কোনো আইসক্রিম খেতে পারেন, কিংবা প্রিয়জনকে উপহার দিয়ে দিবসটি উদযাপন করতেই পারেন।

তবে আইসক্রিমের মধ্যে প্রচুর মিষ্টির থাকার জন্য অনেকে এড়িয়ে চলেন এটি। তেমনই মোটা হয়ে যাওয়ার ভয় থেকেও লোভ সংবরণ করেন অনেকেই। কিন্তু জানেন কি, আইসক্রিম খেলে মোটা না হয়েও দিব্য সুস্থ থাকা যায়। অতিরিক্ত পরিমাণে আইসক্রিম খেলে হয়তো ওজন বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু, পরিমিত পরিমাণে আইসক্রিম খেলে উপকার মিলবে অনেক।

১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান আইসক্রিমের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করেন। যা যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধ শিল্পকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল। রিগান জুলাইকে জাতীয় আইসক্রিম মাস হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তিনি আইসক্রিমকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নব্বই শতাংশেরও বেশি মানুষের খাওয়া একটি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

কারণ, আইসক্রিম এর মধ্যেও রয়েছে নানান উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ। একদিকে আইসক্রিম যেমন এনার্জি বাড়াতে দারুন সাহায্য করে। অপর দিকে আইসক্রিম এর মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, আয়োডিন, ফসফরাস, ভিটামিন A এবং B কমপ্লেক্সের মতো খনিজ পদার্থ। তাই আইসক্রিম বেশি না খেয়ে পরিমিত ভাবে খেলে পরেই মিলতে পারে অনেক গুণাগুণ।

এরপর এই দিবসটি আর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় আটকে থাকিনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইসক্রিম ভক্তরা দিবস উদযাপন করেন ও উপভোগ করেন। আইসক্রিমের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। কথিত আছে, আইসক্রিম জাতীয় খাবার প্রথম খাওয়া হয়েছিল চীনে, তাও আবার ৬১৮-৯৭ খ্রিস্টাব্দ সময়ের মধ্যে।

প্রথম আইসক্রিম ময়দা, মহিষের দুধ এবং কর্পূর থেকে তৈরি করা হয়েছিল। এটি একটি জৈব যৌগ, যা সাধারণত লোশনে ব্যবহৃত হয়। তবে, সেই আইসক্রিম আর এখনকার আইসক্রিম কোনোভাবেই এক হওয়ার কথা নয়। আবার আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট বরফ ও মধু মিশ্রিত একটি খাবার খেতে ভালোবাসতেন। তার প্রায় ১ হাজার বছর পর ইতালিতে মার্কো পোলো একটি রেসিপি এনেছিলেন, যা এখন শরবত নামে পরিচিত।

আইসক্রিম

অনুমান করা হয়, আমরা এখন যাকে আইসক্রিম হিসেবে জানি তার বিকাশ হয়েছিল এই রেসিপির মাধ্যমে। এটি একসময় ‘ক্রিম আইস’ নামে পরিচিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে আইসক্রিমের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৭৪৪ সালে মেরিল্যান্ডের গভর্নর উইলিয়াম ব্লেডেনের এক অতিথির চিঠিতে। এরপর ১৭৭৭ সালের ১২ মে নিউইয়র্ক গেজেট যুক্তরাষ্ট্রে আইসক্রিমের প্রথম বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। আমেরিকান বিপ্লবের পরে আইসক্রিম যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: ১৩ বছরের চাকরি ছেড়ে আইসক্রিম বিক্রি শুরু সানোয়ারের

আসলে, আপনার পছন্দের আইসক্রিমের একাধিক গুণ আছে। আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য আইসক্রিম ভীষণই ভালো। তাই বলে অতিরিক্ত খেতে হবে না, তাহলে ফল উল্টো হবে। কিন্তু সঠিক পরিমাণে আইসক্রিম খেলে দারুন উপকার মেলে। আসুন দেখে নেওয়া যাক আইসক্রিমের উপকারিতা।

আইসক্রিমের উপকারিতা:

১. এনার্জি বাড়ায়: আইসক্রিম আমাদের শরীরে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট প্রদান করে। ফলে এটা খেলে আমাদের এনার্জি বাড়ে।

২. মিনারেল আছে: ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, আয়োডিন, ফসফরাস, ভিটামিন এ, ইত্যাদির মতো একাধিক খনিজ সম্পদ প্রদান করে আইসক্রিম। শরীর ভালো রাখতে যে এই মিনারেলগুলো ভীষণই উপকারী সেটা নিশ্চয় আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

৩. প্রোটিন: আইসক্রিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। যেহেতু এটি দুধ এবং ক্রিম দিয়ে তৈরি হয় তাহলে এটা আমাদের প্রোটিন দেয়।

৪. মানসিক স্বাস্থ্য: আইসক্রিম আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, যেহেতু এটি দুধ দিয়ে তৈরি হয় আর দুধে থাকে ট্রিপটোফ্যান যা সেরোটোনিন নামক একটি হরমোন নিঃসরণ করে।

৫. হাড় ভালো রাখে: আইসক্রিমে যেহেতু প্রোটিন, ক্যালসিয়াম আছে সেহেতু এটি আমাদের হাড়ে শক্তি জোগায়। ভালো রাখে। আর ঠিক এই কারণেই আপনর ডায়েটে এই পছন্দের খাবার রাখতেই পারেন।

৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: শ্বাসযন্ত্র এবং গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনালের জন্য আইসক্রিম ভীষণই ভালো যেহেতু এটি একটি ফারমেন্টেড খাবার। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এই আইসক্রিম।

তাই এখন থেকে কেউ আপনাকে আইসক্রিম খাওয়া থেকে বাধা দিলে তাঁকে জানিয়ে এই খাবারের উপকারিতার কথা। আর নির্দ্বিধায় খান পছন্দের এই খাবার, কিন্তু অবশ্যই মেপে।

পাঠকের মতামত: