কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০

আত্মসমর্পণের বদলে তারা আসেন অতিথি হয়ে

শাহজাহান আকন্দ শুভ::

কক্সবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মরণনেশা ইয়াবা বড়ির পাচার ঠেকাতে গত বছরের ৪ মে থেকে সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ অভিযানে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি কথিত বন্দুকযুদ্ধেও ধরাশায়ী হতে থাকে মাদককারবারিরা। কিন্তু এ ধরনের উদ্যোগেও যখন টেকনাফের ইয়াবা কারবারিদের থামানো যাচ্ছিল না, ঠিক তখনই পুলিশ প্রশাসন টেকনাফের চিহ্নিত ইয়াবাকারবারিদের আত্মসমর্পণ করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীকালে গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ১০২ ইয়াবাকারবারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের তৎকালীন আইজির উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করেন।

কিন্তু আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তালিকাভুক্ত কয়েকজন ইয়াবাকারবারি আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে আসায় এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। আত্মসমর্পণ না করে তাদের অনুষ্ঠানস্থলের সামনের সারিতে বিশেষ মেহমানের আসনে বসতে দেখা যায়। এ নিয়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যায়।

জানা গেছে, সেদিন ইয়াবাকারবারির তালিকায় নাম থাকা টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত জাফর আহমদ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সারিতে বসা ছিলেন। তার ছেলে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়াও অনুষ্ঠানের সামনের সারিতে ছিলেন। এ ছাড়া টেকনাফ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভী রফিক উদ্দীন, তার ভাই বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজউদ্দীন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান লেদু। তারা কক্সবাজারের শীর্ষ ৭৩ ইয়াবাকারবারির তালিকাভুক্ত। এ ৫ জনের

মধ্যে পরবর্তীকালে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া এবং কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান লেদু পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তারা এখন কারাগারে। বাকিরা গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছেন।

পাঠকের মতামত: