কক্সবাজার, বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

‘আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি বিয়ে শেষ’

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে নিজেদের মতো করে স্মরণীয় করে রাখতে বিয়ের অনুষ্ঠানে সেরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাসির হোসেন। বিমানবালা তামিমা তাম্মির সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন হলেও বিতর্ক ও সমালোচনা ঘিরে ধরেছেন এই ক্রিকেটারকে।

অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করে এনেছেন-এমন কথা শুনতে শুনতে নিজেই সমাধান চাচ্ছিলেন নাসির। তাই তামিমার ‘তালাকহীন’ স্বামী রাকিবকে ফোন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই বৃহস্পতিবার রাতে রাকিব জিডি করেন উত্তরা পশ্চিম থানায়। তারপরও ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো ‘ইস্যু’ তৈরি না করতে অনুরোধ করেন নাসির।

উত্তরা পশ্চিম থানায় রাকিব যে জিডি করেছেন, তাতে তিনি উল্লেখ করেন, তামিমা তাকে না জানিয়েই বিয়ে করেছেন। রাকিবের দাবি, তামিমা তার সঙ্গে সংসার করা অবস্থায় অলোক নামে আরেক ছেলেকে বেছে নেন। সেখানে ছয় মাস সংসারও করেন। পরে আবার রাকিবের সংসারে ফিরে যান। তামিমার সঙ্গে এখনো তার ডিভোর্স হয়নি। ডিভোর্স ছাড়া স্ত্রী কিভাবে অন্যের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন সেই প্রশ্ন তার।

গতকাল শনিবার তামিমা ও নিজের সম্পর্কের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন রাকিব। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, তামিমাকে তিনি দুবার বিয়ে করেছেন। অর্থাৎ তামিমার জীবনে তিন স্বামী (নাসির হোসেন, অলোক ও রাকিব) এলেও বিয়ে করেছেন চারবার।

রাকিব বলেন, ‘প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম। সে আসলে আমাকে চাপ দিয়েই বিয়ে করেছিল। প্রথমে আমরা টাঙ্গাইলে কোর্ট ম্যারেজ করেছিলাম। পরে আমরা বিয়ে করি বরিশালে। আমার বউকেই দুইবার বিয়ে করেছি। এরপর সংসার শুরু করি।’

রাকিব বলেন, ‘এক পর্যায়ে ১৪ তারিখ দেখি তার একটা বিয়ের ভিডিও ক্লিপ। সে কবে দেশে আসছে তাও জানি না। আমি তো ভিডিও দেখে অবাক! এটা নিয়ে আমি ১৬ তারিখে একটা জিডি করলাম। জিডি করার পরে এইটা সবাই জানতে পারল। তখন আমার ভাইকে নিয়ে একজন সাংবাদিক আমার শাশুড়ির বাসায় গিয়েছিল। তখন তিনি বলেন, “রাকিব কে? আমি কোনো রাকিবকে চিনি না।” সাংবাদিক ছবি দেখানোর পর তিনি নাসিরকে কল করেন। এরপর নাসির আমাকে ফোন করে। সেই অডিও ক্লিপ আমি মিডিয়ায় দিয়েছি।’

এদিকে, ফেসবুকে রাকিবের নতুন যে ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে, তাতে তিনি তামিমা ও তার প্রেম, বিয়ে ও নাসিরের সঙ্গে নিজের স্ত্রীর বিয়ের বিষয়ে কথা বলেন। একজন ইউটিউবারের করা সেই সাক্ষাৎকারে রাকিব বলেন, ‘আমাকে বিভিন্নজন ফোন করে জিজ্ঞাসা করছিল, ভাই ভাবির সঙ্গে আপনার কী হয়েছে? আমি বলি, আমি তো ডিভোর্সই দেই নাই, আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি বিয়ে শেষ! আমার মেয়ে আমার ভাইয়ের মোবাইলে ছবি দেখে বলে, দেখ চাচ্চু আম্মু! এরপর আমার মেয়ে রাতে ফোন দিয়ে বলেছে, বাবা আম্মু কী করেছে তুমি দেখছ? তুমি আম্মুকে বকা দিবে না? আমি বলছি তোমার আম্মু তো তুমি বকা দিয়ো। আমার মেয়ে কান্না করেছে।’ সেই মেয়ে এখন রাকিবের মায়ের সঙ্গে আছে।

রাকিব জানান, তামিমার বাসায় তার মেয়েকে রাখা সম্ভব নয়। কারণ সেটা ‘সেফ’ না। সাক্ষাৎকারের পরের অংশে কীভাবে রাকিব তামিমাকে পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ের পর লেখাপড়া করিয়েছেন তা-ও বলেন।

পাঠকের মতামত: