কক্সবাজার, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০

আরো ৬৬৭ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর খোঁজ নেয়া হচ্ছে : এসপি মাসুদ

২০১৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী টেকনাফ সরকারি কলেজ মাঠে আত্মসমর্পণ করা ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী আরো ৬৬৭ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম ঠিকানা পুলিশকে জানিয়েছে।আত্মসমর্পণকৃতদের স্বীকারোক্তিতে আসা এই ৬৬৭ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর ব্যাপারে যথেষ্ট খোঁজ খবর নিয়ে ও তদন্ত করে তাদের মধ্য থেকে ৪০ জন থেকে ৫০ জন ছাড়া বাকী সবাই ইয়াবা ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে তদন্তে প্রমাণ মিলেছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) গত ২০ জুলাই এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আত্মসমর্পণকৃতরা বলেছেন, তাদের নাম আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে থাকায় তারা ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন। অথচ তাদের আশে পাশেই অনেকে নিরীহ, ভদ্র ও ভালো মানুষ সেজে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত রয়েছে, তাদের ধরা হচ্ছেনা। তারা সকলে লবণ চাষী, রিক্সাওয়ালা, বাসশ্রমিক, জেলে, অটো ড্রাইভার ইত্যাদি। তারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন। ইটালিয়ান টাইলস দিয়ে আলিশান বাড়ি করেছে। যেসব বাড়ির অনেকগুলো স্থানীয় লোকজন ক্ষোভে গুড়িয়ে দিয়েছেন। আত্মসমর্পণকৃতরা আরো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন উল্লেখ করে এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) বলেন, ইয়াবা বহনকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী থেকে উপরের দিকে ৫ স্থর পর্যন্ত জড়িত লোকের নাম পাওয়া গেছে। মূল ইয়াবা ব্যবসায়ী হচ্ছে, যারা মিয়ানমার থেকে ইয়াবার এজেন্ট হয়ে এদেশে ইয়াবা আনে তারাই। তাদেরকেও সনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরো জানান, ৬৬৭ জনের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন, যারা বড় বড় গলায় কথা বলেন। তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের আর বড় গলায় কথা বলার সুযোগ নেই। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতির আওতায় তাদেরকেও কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার)।

প্রসঙ্গত, আত্মসমর্পণ করা ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামে মারা যায়। অবশিষ্ট ১০১ জন আত্মসমর্পণ করা ইয়াবা ব্যবসায়ী এখনো কারাগারে রয়েছে।

পাঠকের মতামত: