কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০

উখিয়ার উপকূলের সবুজ বেষ্টনি বিপন্ন

রফিক উদ্দিন বাবুল ::

উখিয়ার উপকূলের সবুজ বেষ্টনি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। একদিকে স্থানীয় কাঠচোরদের অব্যাহত তান্ডব অন্যদিকে সাগর থেকে ধেয়ে আসা প্রচন্ড ঢেউয়ের ধাক্কায় একের পর এক ভাঙ্গছে ঝাউগাছ। সর্তক সংকেত অব্যাহত থাকায় মেঘমালার বিরূপ প্রভাবে উত্তাল সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে সপ্তাহ কাল ধরে আঘাত হানছে উপকূলে।

প্রাকৃতিক দূর্যোগে জানমাল রক্ষায় সৃজিত ঝাউবাগান উজাড় হয়ে যাওয়ার ফলে অদূর ভবিষ্যতে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দূর্যোগে উপকূলীয় জনজীবন বিপন্নের আশংকা করছেন পরিবেশবাদীরা।

সূত্রমতে ১৯৯১ সনের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ও জ্বলোচ্ছাসের তান্ডবে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতির নিরিখে তৎকালীন জেলা প্রশাসন উপকূলীয় এলাকায় ঝাউবাগান সৃজন করার উদ্যোগ নিয়ে তা যথা সময়ে বাস্তবায়ন করেন।

সরেজমিন উখিয়া উপকূলের রেজু খালের মোহনা থেকে মনখালী এলাকাঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের তোড়ে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা সমূহের ঝাউগাছ গুলো পড়ে যায়। বনকর্মীরা পড়ে যাওয়া কিছু কিছু গাছ উদ্ধার করলেও অধিকাংশ গাছ স্থানীয়রা রাতের আধারে লুটপাঠ করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক ইউপি সদস্য জাহেদুল আলম জানান, প্রতিরাতে ৭/৮টি করে বড় বড় ঝাউগাছ কর্তন করা হলেও বনকর্মীরা এব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন। স্থানীয় সংবাদকর্মী জাহাঙ্গীর আলম জানায়, ঝাউবাগান দখল করে বসবাসরত অবৈধ রোহিঙ্গা নাগরিক ও স্থানীয় যেসব পরিবার ঝাউবাগানে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছে তাদের মাধ্যমে ঝাউগাছ কর্তন ও পাচার করা হচ্ছে।

একাধিক লোকজন জানায়, পানের বরজ, বাড়িঘর নিমার্ণ কাজে এসব ঝাউগাছ ব্যবহার ও বাজারজাত করা হলেও বনকর্মীরা তা দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। যে কারণে রেজুখালের মোহনা থেকে মনখালী পর্যন্ত উপকূল এখন ঝাউগাছ শূণ্য হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি উপকূলের সোনারপাড়া থেকে মনখালী পর্যন্ত ঘুরে স্থানীয় লোকজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে সাগর উত্তাল হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় সর্তক সংকেত বলবৎ থাকার কারণে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে সাগর উত্তাল হয়ে পড়েছে। জোয়ারের প্রচন্ড ধাক্কায় প্রায় ২শতাধিক ঝাউগাছ পড়ে গেছে।
পড়ে যাওয়া এসব গাছ সংগ্রহের জন্য স্থানীয় বনবিভাগের তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

জানতে চাওয়া হলে, ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম জানান, গত ৭/৮ দিনে ইনানী থেকে চোয়াংখালী পর্যন্ত উপকূলের ঝাউবাগানের প্রায় শতাধিক ঝাউগাছ পড়ে গেছে। এসব ঝাউগাছ কর্তন করে আনুসাঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিলামে বিক্রি করার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, রাতের আধারে বেশ কিছু গাছ স্থানীয়রা লুটপাট করে নিয়ে গেছে।

জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী জানান, উপকূলে সৃজিত ঝাউবাগান প্রকল্প পর্যটন পরিবেশকে দৃশ্যমান করেছে। এসব ঝাউবাগান উপকূলে বসবাসরত মানুষের জীবন মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

তাই এ ঝাউবাগানের উত্তর উত্তর সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহŸান জানিয়ে বলেন, গত ৭/৮ দিনে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলে ২ শতাধিক ঝাউগাছ পড়ে গেছে।

উখিয়া উপজেলা নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি কবি আদিল উদ্দিন চৌধুরী জানান, উপকূলের পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, যারা বন রক্ষায় নিয়োজিত তারাই বন ধ্বংস করছে। সুতরাং ঝাউগাছ নিধন হলে উপকূলের যে অপূরণীয় ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে তার জন্য বনবিভাগকে দায়ীভার বহন করতে হবে।

ইনানী বনরক্ষা সহায়ক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, উপকূলে পর্যটন পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারে মাসিক সভায় বহুমুখী সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও কার্যত তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

তিনি বলেন, উপকূলের সবুজ বেষ্টনী খ্যাত ঝাউবাগান প্রকল্প স্থানীয় মানুষের জানমাল রক্ষায় অপরিসীম ভূমিকা রাখলেও এসব ঝাউবাগান রক্ষার ব্যাপারে সরকারের তেমন কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এভাবে ঝাউগাছ ভাঙ্গতে থাকলে উপকূলীয় জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে।

পাঠকের মতামত: