কক্সবাজার, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২০

দৃশ্যমান হাট বাজার অস্থিত্বহীন

উখিয়ায় অবৈধ স’মিল সর্বস্ব রুমখাঁ বাজারে লেনদেন হচ্ছে কোটি টাকার চোরাই কাঠ

উখিয়া বার্তা ডেস্ক::

আদিকালের চিরাচরিত ও চিরচেনা সপ্তাহিক ক্রেতা বিক্রেতাদের মিলন মেলা হিসেবে পরিচিত হাট বাজার গুলো এখন অস্থিত্ব সংকটে পড়েছে। এ উপজেলায় সরকারি রাজস্ব আদায়ের অন্যতম মাধ্যম ৮টি হাটবাজার থেকে সরকার প্রতিবছর ইজারা দিয়ে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও নুন্যতম উন্নয়ন না হওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি দৃশ্যমান হাটবাজার বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তৎমধ্যে অন্যতম উখিয়ার রুমখঁা বাজার।

এ বাজারে অবৈধ ভাবে বসানো স’মিল ও চোরাই কাঠ লেনদেন বন্ধ করে পরিবেশ সম্মত এলাকায় উন্নীত করার লক্ষ্যে স্থানীয় জনসাধারণ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে।

সরেজমিন হলদিয়াপালং ইউনিয়নের রুমখাঁ বাজার ঘুরে দেখা যায় এখনো বাজারের সেই স্মৃতি চিহ্ন গুলো চোখে পড়ার মতো। বাজারে বসবাসরত কয়েকটি পরিবার ছাড়া তেমন কোন লোকজন দেখা যায়নি। বাজারের এক প্রান্তে গিয়ে দেখা যায় দুটি স’মিল বিকট শব্দ করে কাঠ চিরাই করছে। স্থানীয়রা বললেন, এসব কাঠ গুলো চোরাই করে আনা হয়েছে। স’মিলে বিক্রি করে দেওয়া এসব কাঠ বিভিন্ন সাইজ করে ফার্ণিচারের দোকানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

কোর্টবাজার স্টেশন থেকে সোনার পাড়া সৈকত সড়ক ঘুরলে দেখা যাবে শতাধিক ফার্ণিচারের দোকান। জানতে চাওয়া হলে জানে আলম নামের এক ফার্ণিচার ব্যবসায়ী জানালেন, তারা রুমখাঁ বাজারে প্রতিষ্ঠিত স’মিল থেকে এসব কাঠ সংগ্রহ করে থাকেন।
সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে মুহুর্তেই স’মিল গুলো বন্ধ করে স’মিল কর্মচারীরা সটকে পড়তে দেখা গেছে। এসময় রুমখাঁ বাজার পাড়ায় বসবাসরত মোজাহের মিয়ার ছেলে নুরুল আমিন (৩৮) জানান, তারা শত শত বছর ধরে এ বাজারে বসবাস করে আসছে। জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্যাশিয়া গ্রামের মোস্তাক আহমদ (৩৫), রুমখঁা বাজার পাড়ার মোবারক হোসেন (৩২)সহ আরো বেশ কয়েকজন স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বাজারের মধ্যভাগে প্রকাশ্য দিবালোকে অবৈধ ভাবে স’মিল বসিয়ে দৈনিক হাজার হাজার ঘনফুট কাঠ চিরাই করা হচ্ছে।
তারা আরো জানান, স’মিলের বিকট শব্দ দূষণের কারণে ছেলে মেয়েরা পড়ালেখা করতে
পারছে না। অসুস্থ রোগীরা আরো মুমুর্ষ অবস্থায় প্রতিয়মান। এমন পরিস্থিতি থেকে রেহায়
পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করার পরও কোন কাজ হয়নি। এমনকি আযানের সময় পর্যন্ত এ স’মিল গুলো চালু রাখা হয়ে থাকে বলে
মুসল্লীদের অভিযোগ।
এব্যাপারে প্রতিবাদ করতে গেলে অপহরণ পূর্বক লাশ গুম করে ফেলার হুমকি প্রদর্শন করছে
বলে অভিযোগকারীরা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের
হস্তক্ষেপ কামনা করে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে সুস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য পরিবেশে ফিরিয়ে আনার দাবী
জানান। উখিয়া বনরেঞ্জের দায়িত্বরত বনরেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী তারিকুর রহমান জানান, তিনি
স’মিল গুলো উচ্ছেদের ব্যাপারে বেশ কয়েকবার পদক্ষেপ নিয়েছেন। অভিযানের খবর পেয়ে স’মিল
গুলো সরিয়ে ফেলার কারণে উদ্ধার কাজে সফলতা আসেনি। তবে এব্যাপারে মামলা করা হয়েছে বলেও
তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

পাঠকের মতামত: