কক্সবাজার, শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

উখিয়ায় বালু খেকোদের আগ্রাসন থামছেই না

নিজস্ব প্রতিবেদক::

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না বালু খেকোদের আগ্রাসন। ড্রেজার মেশিন জব্দসহ বারবার মোটা অংকের জরিমানা করেও প্রশাসন কুলকিনারা করতে পারছে না। ফলে একদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে বলে পরিবেশবাদী সচেতন মহল দাবী করছেন।

সম্প্রতি রত্নাপালং ও জালিয়াপালংয়ের মধ্যস্থল দিয়ে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা রেজুর ভাঙ্গন থেকে মনির মার্কেট রক্ষায় এলজিইডির অর্থায়নে দীর্ঘ ১০০ মিটার একটি প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছিল।

বাজার পাড়া গ্রামের এনজিওকর্মী আব্দুল আজিজ জানায়, স্থানীয় আ’লীগ নেত্রী খুরশিদা করিমের ছেলে মোঃ শাহজাহান রেজুখাল থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে ওই গ্রাম রক্ষা বাঁধটি ভেঙ্গে যায়। এছাড়াও বালি পরিবহনের ফলে সৈকত সড়কের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙ্গন ধরেছে।

যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী এ সড়কে এলজিইডি জোড়াতালি দিয়ে উন্নয়ন কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বদরুল ইসলাম।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ১০টি বালি মহালের মধ্যে ৮টি বালি মহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। তন্মধ্যে ওয়ালাপালংয়ে একটি, কুমারির ছড়া ২টি, থাইংখালী একটি, বালুখালী ২টি, দোছরী ১টি সহ ৭টি বালি মহালের তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি একটি বালি মহালের সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি যে দু’টি খাল ইজারা দেওয়া হয়নি তাও বলতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। কাগজে কলমে ৮টি বালি মহালের ইজারা উল্লেখ থাকলেও উপজেলার প্রায় ৫০টি পয়েন্টে নির্বিচারে বালি উত্তোলন ও পাচার করা হচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

তন্মমধ্যে শিলের ছড়া পাহাড় কেটে বালি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এসব বালিমহাল হতে সাংবাদিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে উৎকোচ সুবিধা যাচ্ছে বলে বালু পরিবহনে নিয়োজিত ডাম্পার গাড়ির চালাকেরা জানিয়েছেন। এছাড়া বালুখালী, থাইংখালী, পালংখালী, তাজনিমারখোলা, মাছকারিয়া, মোঃ আলী ভিটা, দোছরী, মাইল্যারকুল, হরিণমারা এলাকার ৬টি স্পট থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। হরিণমারা গ্রামীণ সড়ক দিয়ে বালু বোঝাই ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী এ সড়কটি কার্পেটিংয়ের আওতায় আনার জন্য প্রায় ৬ মাস আগে ইজারাদার নিয়োগ করলেও কোনো কাজ হয়নি। উপরোন্তু সংশ্লিষ্ট ইজারাদার রাস্তার পুরোনো ইটগুলো তুলে নিয়ে যাওয়ার কারণে রাস্তাটি এখন খালে পরিণত হয়েছে।

এ নিয়ে বালু উত্তোলনকারী ও স্থানীয়দের মধ্যে দফায় দফায় ঘটনা ঘটলেও পাচার থেমে নেই। ইনানীর ছোটখাল, বড় খাল, চেংছড়ি, মনখালী ও দোছরীর ৫টি স্থানসহ থাইংখালীর ১৫টি স্পট থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এদিকে রাজাপালংয়ের হিজলিয়া খালের নিচ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ব্রীজটি এখন নড়বড়ে অবস্থায় প্রতীয়মান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

হিজলিয়া খালের বিভিন্ন অংশে জনবসতি বিলীন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় তহসিলদার আবুল হোছাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও বালু উত্তোলন আগের নিয়মেই চলছে। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের দাবীর প্রেক্ষিতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগের সভাপতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বালু উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তাজ উদ্দিন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত যানবাহন মেশিন ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে অর্ধ শতাধিক বালু উত্তোলনকারীকে। তথাপিও সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্ত প্রদান করতে পারলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত: