কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০

উখিয়ায় ভূমিদস্যুদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত সরকারী পাহাড়, নিস্ক্রিয় বন বিভাগ

কক্সবাজারের উখিয়ার সর্বত্র সরকারী মালিকানাধীন বনভূমি একের পর এক বেহাত হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বন বিভাগ সেই কথিত জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে পার পেয়ে নগদ হাতিয়ে পাহাড়খেকো ও ভূমিদস্যুদের দখলের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।পাহাড় কেটে মাটি পাচার, বন ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন ঘটিয়ে ঘর বাড়ীসহ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, জবরদখল সমানে চললেও যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না।

বিশেষ করে ২০১৭ সালে ব্যাপকহারে রোহিঙ্গা আগমন ও আশ্রয়ের সুযোগে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা অধিকহারে সরকারী মালিকানাধীন বনভূমি জবরদখলের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। কারো বসত ভিটা, দোকান পাঠ বা সরকারি বেসরকারী স্থাপনা নির্মাণসহ সবধরনের কাজে মাটি ভরাট ও অনান্য কাজে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে বন বিভাগের পাহাড়ী মাটি। সরকারী পাহাড়ী মাটি কাটা,পরিবহন, পাচার, বিক্রিতে এলাকা ভিত্তিক একাধিক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
এসব সিন্ডিকেটের লোকজন জায়গায় জায়গায় সংশ্লিষ্টদের অনৈতিক ম্যানেজ করে এসব অপকর্ম চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারী বনভূমি জবরদখলকারী সিন্ডিকেট গুলো অধিকতর বেপরোয়া ভাবে কাউকে কোন ধরনের তোয়াক্কাই করছে না। এমনকি সরকারী বনভূমি সংলগ্ন স্থানীয় লোকজনের মালিকানাধীন জায়গা জমিও এসব ভূমিদস্যুদের কবল থেকে রেহায় মিলছে না।

উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা আব্বাস উদ্দিন ভূমিদস্যু সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নব্য কালো টাকার মালিক হওয়া একই গ্রামের গোরা মিয়ার তিন ছেলে বাবুল মিয়া,আবু তাহের ও আবুল আলা গত ২/৩ মাস ধরে তাদের ওয়ারিশান সম্পত্তি সংলগ্ন বন বিভাগের একটি পাহাড় কেটে নিশ্চিহ্ন করে ফেলেছে। পাহাড় কেটে শ্রেণী পরিবর্তন ঘটিয়ে ঐ সরকারী জমিতে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ করছে।

এ ব্যাপারে উখিয়ার ইনানী বনরেঞ্জ কর্মকর্তাকে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করা হয়েছে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারী কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হয়েছে। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না,বরং জবরদখলকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উপরন্তু পাহাড় কাটার মাটি বর্ষার বৃষ্টিতে ধুয়ে আমাদের ফসলী জমিতে পড়ে আবাদী জমি নষ্ট হয়ে পড়ছে।

ইনানী বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহীম হোসেন সর্বত্র বেপরোয়া ভাবে বন বিভাগের সরকারী বনভূমি জবরদখল ও সমানে পাহাড় কেটে বনভূমির শ্রেণী পরিবর্তন ঘটানোর কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, রাজাপালং বনবিটের তুতুরবিল এলাকায় পাহাড় কেটে, বসত বাড়ী নির্মাণে বাধা উপেক্ষা করে সন্ত্রাসী ভূমিদস্যুরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বন বিভাগের জনবল সংকটের কথা জানিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী তুতুরবিলের অভিযুক্ত অবৈধভাবে জবর দখলকৃত বনভূমি উচ্ছেদ করে বেআইনি স্থাপনা ভেঙ্গে দিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে জানানো হয়েছে। উখিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আমিমুল এহসান খান বলেন, বুধবার (৮ জুলাই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ওখানে বর্ণিত সরকারী পাহাড় প্রায় পুরোটাই কেটে ফেলা হয়েছে। নির্মিত হচ্ছে পাকা বাড়ী।

তিনি বলেন, অনেকদিন ধরে পাহাড় কেটে বাড়ী নির্মাণ করা হলেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে জবরদখলকারীর বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাছাড়া ঘটনাস্থলে গেলেও বন বিভাগ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য কোন আয়োজন করেনি। ফলে বন বিভাগকে বন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে উক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান।

অভিযোগকারী আনিস জানান, রাজাপালং বনবিট কর্মকর্তা আবুক হোসেন গজনবী বন ভূমদস্যুদের সাথে আঁতাত করে কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। বরং তিনি সরকারী বনভূমি জবরদখল ও পাহাড় কাটতে ভূমিদস্যুদের সহায়তা দিয়ে আসছে। বনবিট কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পাঠকের মতামত: