কক্সবাজার, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০

করোনা প্রতিরোধে ব্যস্ত প্রশাসন..

উখিয়া-টেকনাফ সড়ক পথে ইয়াবা পাচার অপ্রতিরোধ্য

মোহাম্মদ ইব্রাহিম মোস্তফা, উখিয়া বার্তা::

বিশ্ব মহামারিতে করোনা ভাইরাসে সারাদেশ যখন আক্রান্তের ভারে ন্যুয়ে পড়েছে, এ মোক্ষম সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঠিক তখনই তৎপর হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ ইয়াবা পাচারকারী সিন্ডিকেট। ইয়াবা পাচারের সাথে বেশির ভাগ জড়িত রোহিঙ্গাদের নেটওয়ার্কের বিস্তৃর্ণ জাল সারাদেশ ছড়িয়ে পড়েছে আশংকাজনক। প্রতিদিন খবরের কাগজ উল্টালেই দেখা যায় উখিয়া টেকনাফের রোহিঙ্গা ইয়াবা পাচারকারী দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিপুল সংখ্যক ইয়াবাসহ ধরা পড়ছে।

অভিজ্ঞ মহলের বিজ্ঞ অনুমান ও তাদের ভাষায় উঠে এসেছে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রশাসনের ব্যস্ত থাকার কারণে সড়ক পথে পাচারকারী চক্র নির্বিঘ্নে ইয়াবার বড় বড় চালান পাচার করছে। মাঝে মধ্যে পুলিশ, বিজিবি, ডিবি, র‍্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ছোটখাট ইয়াবার চালান তাদের বুদ্ধিমত্তায় আটক করতে সক্ষম হলেও বড় বড় রাঘব গোয়াল ইয়াবা চক্র অনায়সে তাদের গন্তব্য স্থলে পৌঁছে যাচ্ছে। অবৈধ পন্থায় আয় করছে কোটি
কোটি টাকা। যা দিয়ে উখিয়া টেকনাফের ফরেষ্ট ল্যান্ড দখল করে তৈরি করছে আলিশান বাড়িঘর। এতে একদিকে যেমন সরকারের বিশাল বনাঞ্চল বেদখল হচ্ছে অন্যদিকে মাদকে সয়লাব হওয়ার কারণে যুব সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। রোহিঙ্গা
যুবকের চাইতে যুবতীরা ইয়াবা পাচার কাজে জড়িয়ে পড়ার কারণে অনৈতিকতা বৃদ্ধি পেয়েছে চরম ভাবে।

গতকাল ১৭ জুলাই শুক্রবার কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ সদস্যরা গোপন সূত্রের সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া সংলগ্ন চকবাজার এলাকায় আরও একটি মাদকের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা মৃত হাকিম আলীর দুইপুত্র ফারুক হোসেন (৩৭) ও আজিজুল হক (২৬) কে ২০ হাজার পিস
ইয়াবাসহ হাতে নাতে আটক করছে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অস্ত্র উদ্ধারে চকবাজার একটি নির্জন এলাকায় তল্লাসী চালাতে গেলে র‍্যাবকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়ে। এ অবস্থায় আত্মরক্ষার্থে র‍্যাব সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে আটক দুই ভাই ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হয়। পরে তাদেরকে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত বলে ঘোষনা করে। এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, মাদক পাচারে জড়িত এখনো অনেক অপরাধী ধরাছোয়ার বাইরে থেকে
বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা পাচার অব্যাহত রেখেছে। এমনকি তারা অস্ত্র নিয়ে ইয়াবার চালান পাচার করছে বলে একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গত ১৪ জুলাই টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় র‍্যাব-১৫ সদস্যরা শাপলাপুর সড়কে অভিযান চালিয়ে ৮ হাজার ৯’শ ৫০ পিচ ইয়াবা সহ কুতুপালং ১নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত হায়দার আলীর স্ত্রী হাসিনা বেগম (২৫) কে আটক করেছে। তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজার মূল্য অর্ধকোটি টাকা বলে র‍্যাব-১৫ এর সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউপি সদস্য ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিএসবি২৪.ডটকমের পরিচালক নুরুল আবছারের বাড়ীতে র‍্যাব সদস্যরা গত ১৩ জুলাই সোমবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে নুরুল আবছারকে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ্দ করে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মর্জিনা আক্তার মরজু বলেন, বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী হিসেবে মুষ্টিমেয় পুলিশ সদস্য নিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন চোরাচালান পাচার নিয়ন্ত্রণে আনা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তথাপিও পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভূতপূর্ব ও দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্ভব রেখেছে।

র‍্যাব-১৫ সূত্র আরো জানায়, গত ১১ জুলাই কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের হোয়াইক্যং
বালুখালী এলাকায় অবস্থিত একটি আস্তনায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ ২ জন অস্ত্রধারী ইয়াবাকারবারিকে আটক করেছে। আটককৃত ইয়াবাকারবারি বালুখালী
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৯নং ব্লকের মোঃ শফিক (২৫), হোয়াইক্যং বালুখালী গুনাপাড়া গ্রামের আব্দুল করিম (২২)। এদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলে ওই র‍্যাব কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত: