কক্সবাজার, শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২

উঠান বৈঠকে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের শপথ..

উখিয়ায় বাল্যবিয়ে বেড়েছে ৭৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক::

করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও সারা দেশের মতো কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে। সেই সাথে করোনাকালে বেড়েছে বাল্যবিয়ে। সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কক্সবাজার জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বাল্যবিয়ে। জেলার ঈদগাঁও উপজেলায় বাল্যবিয়ে বেড়েছে ৮২ শতাংশ এবং উখিয়ায় বাল্যবিয়ে বেড়েছে ৭৫ শতাংশ। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নিতে এবং বাল্য বিয়ে ঠেকাতে প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করছে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।

গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, পাড়ায় পাড়ায় লিফলেট বিলি, উঠান বৈঠকসহ নানা ধরণের আয়োজনের মাধ্যমে চলছে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজ। উঠান বৈঠকের মাধ্যমে উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক মানুষকে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের শপথ করানো হয়েছে। বুধবার নয় দিনব্যাপী এই উঠান বৈঠক কার্যক্রম শেষ হয়। ইপসার উদ্যোগে এসব উঠান বৈঠকের আয়োজনে সহযোগিতা করে ডয়েচে ভেলে একাডেমি। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ও পালংখালী ইউনিয়নে মোট নয়টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে একশো মানুষ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের শপথ নেন।

বুধবার সকাল দশটায় উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় শুরু হয় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে উঠান বৈঠকের কার্যক্রম। এ বৈঠক পরিচালনা করেন কমিউনিটি কমিউনিকেশন স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ফর সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেস প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শিহাব জিশান। তিনি উঠান বৈঠকে বাল্যবিয়ের নানা ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন। নানা ধরণের অডিও এবং ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে বৈঠকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সচেতনতার বার্তা। বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক ছাড়াও এ বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পরা রোধ ও মাস্ক পরার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিহাব জিশান জানান, “করোনার কারণে সবার আয়ের উপর প্রভাব পড়েছে। সেই সাথে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেড়েছে বাল্যবিয়ে ও ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের হার। এগুলা একটা আরেকটার সাথে সম্পর্কিত। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নানাভাবে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছি।

এবারের প্রকল্প মেয়াদে নানা বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরীতে ৯টি উঠান বৈঠক, ৩৯টি অডিও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ও ১৮টি ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়েছে।”

পাঠকের মতামত: