কক্সবাজার, শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১

এসএসসি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ

করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি প্রকাশ করেছে সরকার। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনর্বিন্যাস করা এ পাঠ্যসূচি প্রকাশ করা হয়।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর তৈরি এ পাঠ্যসূচির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের তৈরি করা সংক্ষিপ্ত সিলেবাস নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে সভা হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপর সেই সিলেবাস আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

এনসিটিবি এ সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করার লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক-কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে মাসব্যাপী কর্মশালা করা হয়। সেখানে দেশের নামিদামি শিক্ষপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বাছাই করা জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নেওয়া হয়। তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অধ্যায়গুলো রেখে একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে। সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে গত ১৭ জানুয়ারি তুলে দিয়েছে এনসিটিবি।

জানা গেছে, মাধ্যমিকে সব বিভাগের মোট ৩২টি বিষয়ের ওপর কর্মশালা হয়। সে বিষয়গুলো গড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। সব বিষয়ে সমান বলা যাবে না। কারণ একেক বিষয়ে একের ধরনের পাঠ কমেছে।

এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে- হিসাববিজ্ঞান, কৃষি, চারুকারু, বাংলা-১ পত্র, বাংলা-২য় পত্র, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, জীববিজ্ঞান, বৌদ্ধধর্ম, ব্যবসা উদ্যোগ,ক্যারিয়ার এডুকেশন, রসায়ন, খ্রীষ্টান ধর্ম, অর্থনীতি, ইংরেজি-১ম পত্র, ইংরেজি-২য় পত্র, ব্যাংকিং এন্ড ফিন্যান্স, ভূগোল ও পরিবেশ, উচ্চতর গণিত, হিন্দু ধর্ম, ইতিহাস, গাহস্থ্যবিজ্ঞান, আইসিটি, ইসলাম ও আদর্শ শিক্ষা, গণিত, শারীরিক শিক্ষা, পদার্থ বিজ্ঞান এবং সাধারণ বিজ্ঞান।

সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ হয়ে আগামী জুনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে রোববার (২৪ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে পাঁচ বা ছয় দিন ক্লাস করানো হবে। আর অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একদিন ক্লাস করানো হবে।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসে সংক্রমণের পর গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। কওমি মাদরাসা বাদে অন্যসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা আছে। পরীক্ষা নিতে না পারায় গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল ঘোষণা করা হবে শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে।

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার প্রস্তুতি নিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। যাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পাওয়ামাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায়।

পাঠকের মতামত: