কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২

কক্সবাজারে আদালতে জবানবন্দি দিলেন সেই নারী পর্যটক

কক্সবাজারে স্বামী-সন্তানসহ বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী পর্যটকের জবানবন্দি নিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হামীমুন তানজীনের আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক রুহুল আমিন জানান, মামলার নিয়ম অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে আদালত আনা হয়। এ সময় তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন। এর আগে দুপুর ২টার সময় ওই নারী ও তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। বর্তমানে তারা ট্যুরিস্ট পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

সন্ধ্যায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচিত মামলাটিতে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট, সাক্ষীদের সাক্ষ্যসহ যাবতীয় বিষয় গুরুত্ব সহকারে ট্যুরিস্ট পুলিশ তদন্ত করছে। আমরা তাদের সহযোগিতা করছি।’

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল এলাকায় অনেক অপরাধী রয়েছে স্বীকার করে পুলিশ সুপার বলেন, ‘কলাতলী হোটেল এলাকায় কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, আবার কেউ দালালি ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত। আমরা সব বিষয় নিয়ে এগোচ্ছি। আসামি আশিকুল ইসলাম আশিকের সঙ্গে কারা জড়িত, তার আয়ের উৎসব কী এবং কার ইন্ধনে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত- সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত আশিকুল ইসলাম আশিকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন, ছিনতাই, ইয়াবা ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৬টি মামলা রয়েছে। তার অন্যতম সহযোগী জিয়ার বিরুদ্ধেও দুটি মামলা আছে। তারা মূলত কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের ত্রাস হিসেবে পরিচিত। তাদের গ্যাংয়ে অর্ধশতাধিক সদস্য রয়েছেন। তারা গ্রেফতারও হয়েছে একাধিকবার।

এর আগে, স্বামী-সন্তানসহ বুধবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছেন ওই নারী। ওঠেন শহরের হলিডে মোড়ের একটি পাঁচতলা হোটেলে। ওই দিন বিকালে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে লাবণী বিচে যান। রাতে হোটেলে ফেরার পথে এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগে। এতে স্বামীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে ওই যুবক। বাধা দিলে তার সঙ্গেও তর্কে জড়ায় যুবক। ওই সময় আরও দুই যুবক ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। তারা স্বামী-সন্তানকে ইজিবাইকে তুলে দিয়ে ওই নারীকে আলাদা করে ফেলে। পরে ওই এলাকার একটি ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে তিন জনে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর স্বামী-সন্তানকে হত্যার ভয় দেখিয়ে একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে এক যুবক স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তাকে হোটেলের রুমে নিয়ে আবারও ধর্ষণ করে। শেষে রুমের দরজা বাইর থেকে আটকে পালিয়ে যায়। হোটেল থেকে বেরিয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করেন ওই নারী। পুলিশের কোনও সহায়তা না পেয়ে র‌্যাবকে খবর দেন। তখন হোটেলে আসে র‌্যাব।

পাঠকের মতামত: