কক্সবাজার, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০

কক্সবাজারে জন্মনিবন্ধন চালু করার সিদ্ধান্ত

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বন্ধ থাকা জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান প্রায় তিন বছর পর চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

রোববার দুপুরে জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া চালুর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক পেইজের এক পোস্টে জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানামারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত সংহিসতার পর দেশটির সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে বিভিন্ন সময়ের সহিংসতার ঘটনায় আশ্রয় নিয়েছিল অন্তত ৫ লাখ রোহিঙ্গা।

আশ্রয় নেয়া এসব রোহিঙ্গাদের অনেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের নাগরিক সনদ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছিল। এর প্রেক্ষিতে গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে প্রশাসন কক্সবাজার জেলায় জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়।

এ নিয়ে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির এক সভা ভার্চুয়াল প্লাটফরমে (অনলাইন মিটিং) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে বন্ধ থাকা জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই পূর্বক চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি সিদ্ধান্ত আকারে সংশ্লিষ্টদের কাছে নির্দেশনা নিয়ে এক চিঠি প্রেরণ করা হবে।

এছাড়াও সভায় লকডাউন পরবর্তী সময়ে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনপূর্বক পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ে দোকানপাট, শপিংমল খোলা রাখা, গণপরিবহন চলাচল মনিটরিং, স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা মাঠে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, অনলাইন পশুর হাট জনপ্রিয়করণ, পর্যটন স্পটসমূহ খুলে না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নিশ্চিতকরণ, ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার লক্ষ্যে আইনজীবিদের প্রশিক্ষণ প্রদান, গ্রাম আদালতে পেন্ডিং মামলা সমূহ নিষ্পত্তিকরণ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় সমন্বিত টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তাছাড়া ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে গরু-মহিষ চুরি-ডাকাতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, মহাসড়কে পরিবহনের চাঁদাবাজি নিবৃত্তকরণ এবং কক্সবাজার-টেকনাফ সংযোগকারি সড়কসহ ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সমূহ মেরামতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ জেলার সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে নানান সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের ফেইসবুক পেইজে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ ছাড়াও জনপ্রতিনিধিগণ, পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

পাঠকের মতামত: