কক্সবাজার, রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০

কক্সবাজারে পরিবেশবাদী সংগঠনের মানববন্ধন: চাই বর্জ্যমুক্ত বঙ্গোপসাগর

বঙ্গোপসাগরে এখন মাছের চেয়ে বর্জ্য বেশি। দেশের অভ্যন্তরীণ নদনদী ছাড়াও ৫৪টি অভিন্ন নদী দিয়ে নানা অপচনশীল বর্জ্য মিশছে বঙ্গোপসাগরে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর বর্জ্যও মিশছে এতে। এ কারণে বঙ্গোপসাগরে মাছের চেয়ে বর্জ্যের হার এখন অনেক বেশি। তাই আমাদের বঙ্গোপসাগর ও এর মৎস্য সম্পদকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই প্লাস্টিক সামগ্রী নিষিদ্ধ করতে হবে।

প্লাস্টিক পণ্য নিষিদ্ধের দাবিতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় চারটি পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। শহরতলীর দরিয়ানগর সৈকত সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে সম্প্রতি সৈকতে যে বর্জ্যের পাহাড় ভেসে এসেছে, তা নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেন তারা। বক্তারা কক্সবাজারকে বাঁচাতে হলে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি তুলেন। এর উপায় হিসেবে তারা পচনশীল দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য পণ্যের ব্যবহারের উপর জোর দেন।
বক্তারা আরো বলেন, আমরা সমুদ্রে যে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলি, সেটা ভাঙতে ভাঙতে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়। আর সাগরের মাছ খাদ্য মনে করে সেই প্লাস্টিক গ্রহণ করে। আবার খাদ্য লবণের মধ্যেও পাওয়া যাচ্ছে প্লাস্টিক। এতে আমাদের জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই ওয়ানটাইম প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে হবে।
কক্সবাজারের পরিবেশবাদী সংগঠন দরিয়ানগর গ্রিন ভয়েস, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিইএইচআরডিএফ), ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস ও বাংলাদেশ প্লাস্টিক ব্যাংক উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

সিইএইচআরডিএফ এর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়ার সভাপতিত্বে ও সমন্বয়ক আবদুল মান্নান রানার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশকর্মী আহমদ গিয়াস। বক্তব্য দেন ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস এর সমন্বয়ক শান্ত নূর, বাংলাদেশ প্লাস্টিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাকির আলম, সিইএইচআরডিএফ এর পরিচালক (কর্মসূচি) রুহুল আমিন, উপ-পরিচালক (রিচার্স ও এডভোকেসি) ইয়াসির আরাফাত, দরিয়ানগর গ্রিন ভয়েস সভাপতি পারভেজ মোশাররফ ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সায়েম প্রমুখ। মানববন্ধনে চার সংগঠনের শতাধিক পরিবেশকর্মী অংশ নেন।

পাঠকের মতামত: