কক্সবাজার, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

কক্সবাজারে পর্দা উঠলো ঐতিহ্যবাহী ডিসি সাহেবের বলি খেলা ও বৈশাখী মেলার

কক্সবাজারে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ডিসি সাহেবের বলি খেলা ও বৈশাখী মেলা। শুক্রবার (১০ মে) বিকেলে বেলুন উড়িয়ে  কক্সবাজারের বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে খেলা ও মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান।এটি এই খেলার ৬৯ তম আসর। শনিবার (১১ মে ২৪) বিকেলে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে বলী খেলা সমাপ্ত হবে।

 

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন জানান, এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৪০০ জন বলি খেলায় অংশ নিতে রেজিষ্ট্রেশন করেছেন। এবছর বলি খেলার অন্যতম আকর্ষণ চট্টগ্রামের জব্বারের বলি খেলার চ্যাম্পিয়ন বলি বাঘা শরীফের অংশগ্রহণ। তিনি কুমিল্লার বাসিন্দা। এছাড়াও, বিগত আসরের চ্যাম্পিয়ান উখিয়ার নুর মোহাম্মদ বলি, শামসু বলি ও জীবন বলি খেলায় অংশ নিচ্ছেন।

 

ডিসি সাহেবের বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক হেলাল উদ্দিন কবির বলেন, এবার বলীখেলায় জমজমাট লড়াই হবে। যেখানে কুমিল্লার বাঘা শরীফ, শাহজালাল, শামশু, উখিয়ার নুর মোহাম্মদ বলীদের মধ্যে লড়াই হবে। ১ম, ২য় ও ৩য় মেডেলের ৩টি ক্যাটাগরি অংশ নিচ্ছে ৩ শতাধিক বলী। এবার বলীদের সম্মানীও বাড়ানো হয়েছে। এবারের বলীখেলায় ১ম মেডেলে চ্যাম্পিয়ন ২৫ হাজার টাকা, রানার আপ ১৫ হাজার টাকা। ২য় মেডেলে চ্যাম্পিয়ন ১২ হাজার টাকা, রানার আপ ৮ হাজার টাকা এবং ৩য় মেডেলে চ্যাম্পিয়ন ১০ হাজার টাকা ও রানার আপকে ৭ হাজার টাকা উপকৃত করা হবে।

 

সম্পাদক হেলাল উদ্দিন কবির বলেন, এরই মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণসহ জেলাজুড়ে বলীখেলার ব্যানার-ফেস্টুনে ছেঁয়ে গেছে। আর বলীখেলার মাঠ  প্রস্তুত করা হয়েছে, বলীখেলার বিচারকও আনা হয়েছে। আশা করি, এবার বলীখেলা দর্শকদের বেশ আনন্দ দিবে। বলীখেলার সঙ্গে বৈশাখী মেলা শুরু হচ্ছে। মেলায় থাকছে ঐতিহ্যবাহী নাগরদোলা, হস্তশিল্প, কুটির শিল্প, তাঁত শিল্প, বস্ত্র শিল্প, মৃৎ শিল্প ও দেশীয় পণ্যের বিপুল সমাহার।

 

এদিকে, বলি খেলার পাশাপাশি আয়োজিত বৈশাখী মেলায় রয়েছে- নাগরদোলা, হস্ত, কুটির, তাঁত শিল্পসহ নানা ধরনের পণ্যের স্টল।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জাহিদ ইকবাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিভীষণ কান্তি দাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট, বলী খেলা উপ-কমিটির সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন কবির প্রমুখ।

 

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য অংশ ডিসি সাহেবের বলি খেলা। ১৯৫৬ সালে কক্সবাজার মহকুমা থাকাবস্থায় ‘এসডিও সাহেবের বলি খেলা’ নামে এ খেলার প্রবর্তন হয়। ১৯৮৪ সালে কক্সবাজার জেলায় রূপান্তর হওয়ার পর ‘এসডিও সাহেবের বলী খেলার’ নাম বদলে ‘ডিসি সাহেবের বলি খেলা’ করা হয়।

পাঠকের মতামত: