কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

কক্সবাজারে ‘মাছের আহরণোত্তর অপচয় হ্রাস’ বিষয়ক নাগরিক সংলাপ

দেশে বছরে মৎস্য আহরণোত্তর ক্ষতি ২০ হাজার কোটি টাকা !

দেশে প্রতি বছর মৎস্য আহরণোত্তর ক্ষতি হয় ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এমন প্রেক্ষাপটে মৎস্যখাতের সাথে জড়িতদের সচেতন করার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার লোকসান কমাতে চায় সরকার। উৎপাদিত মাছের অপচয় রোধ ও গুনগত মান নিশ্চিত করেগ রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কক্সবাজারে ‘মাছের আহরণোত্তর অপচয় হ্রাস’ বিষয়ক এক নাগরিক সংলাপে এমন তথ্য উঠে আসে।
সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে মাছ আহরণ থেকে শুরু করে বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ মাছ নষ্ট হয়ে যায়। এতে প্রতিবছর দেশে মাছের আহরণোত্তর ক্ষতি হয় ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুধু পরিবহণের সময় নষ্ট হওয়া মাছের ক্ষতি অর্ধেক কমিয়ে আনলে প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকার মাছ বাঁচানো সম্ভব। আর মাছের অপচয় রোধ ও গুনগত মান নিশ্চিত করে রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব হবে।’

মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: আব্দুল কাইয়ুম। এতে কক্সবাজার প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম, মৎস্য ব্যবসায়ী, জেলে, ট্রলার মালিক, শুঁটকি ব্যবসায়ীসহ মৎস্য আহরণের সাথে জড়িতরা অংশ নেন। এসময় মৎস্যজীবীরা তাদের নানা নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের পরিচালক মো: জিয়া হায়দার বলেন, ‘মাছের আহরণোত্তর ক্ষতি হয় মূলত সচেতনতার অভাব ও অবহেলা, বরফের অপর্যাপ্ততা, বরফ বাক্সের অভাব, দ্রুত মাছ পরিবহন ও সংরক্ষণের অপ্রতুলতা, জটিল ও লম্বা সরবরাহ চেইনের কারনে। আর ক্ষতির উপাদানগুলো হলো, সময়, তাপমাত্রা ও পরিচর্যা পদ্ধতি।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: বদরুজ্জামান বলেন, ‘মাছের পচন রোধের জন্য মাছ ধরার সাথে সাথে নৌকায় তোলার পর ছোট মাছ, বড় মাছ, পঁচা মাছ, তাজা মাছ, ভাল মাছ, আঘাত পাওয়া মাছ, আলাদা করা, মাছ ধরার পর জাল থেকে ছাড়ানো, বরফ ঘরে রাখা ও বের করা, ট্রলার থেকে নামানো এবং মাছ পরিবহনের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা, মাছকে নিক্ষেপ না করা, মাছের উপর না দাড়ানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া সামুদ্রিক মাছের বাজারজাত করণে সবার প্রথমে মাছের সরবরাহ চেইনে সার্বক্ষণিক সঠিকভাবে বরফের মাধ্যমে সংরক্ষণ নিশ্চিত করা, ল্যান্ডিং সেন্টারগুলোর আধুনিকায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাছ পরিবহনে সঠিক অনুপাতে বরফ ব্যবহার করা ও বিশুদ্ধ পানির বরফ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।’
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০৪১ সালে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫ লাখ মেট্রিক টন, যা বর্তমানের চেয়ে ১ দশমিক ৮ গুণ বেশি। পৃথিবীর ৫২টি দেশে বাংলাদেশের মাছ রপ্তানি হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে দেশের আয় হয়েছে ৪৭৯০ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

পাঠকের মতামত: