কক্সবাজার, শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২

কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে হাইকোর্টের ক্ষোভ

কক্সবাজারে এক নারীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকারের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। তদন্তাধীন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার ব্রিফিং করাটা উচিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেছে আদালত।

ধর্ষণের ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিটের শুনানির সময় মঙ্গলবার বিচারক এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারক মো. মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব মন্তব্য করে।

আদালত বলেছে, ‘কক্সবাজারে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার তদন্ত চলছে। বিষয়টি নিয়ে একেক সংস্থার একেক প্রতিবেদন কাম্য নয়। এক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তার ব্রিফিংও কাম্য নয়। তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন সংস্থার অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য দুঃখজনক। এসবে জনগণের মাঝে ভুল বার্তা যেতে পারে।’

স্পর্শকাতর এসব তদন্তাধীন বিষয়ে কে কথা বলবেন, কতটুকু বলবেন এটা নিয়ে পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে তদন্তাধীন বিষয়ে বক্তব্য নিয়ে হাইকোর্টের পূর্বের রায়ের বাস্তবায়ন কত দূর সেটিও জানতে চেয়েছে আদালত।

জনস্বার্থে সোমবার রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল হারুন ভুইয়া। এতে বিবাদী করা হয় স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশপ্রধান, কক্সবাজারের র‌্যাবের সিওসহ ৬ জনকে।

রিটকারী আইনজীবী বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থা থেকে যেসব বক্তব্য পাওয়া গেছে তা অনেকটা সাংঘর্ষিক। সেজন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দোষীদের শানাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।’

গত ২২ ডিসেম্বর কক্সবাজারে স্বামী ও সন্তানকে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। এরপর এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী চারজনের নাম উল্লেখ ও তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মামলায় নাম উল্লেখ করা চার আসামির সবাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন কক্সবাজার শহরের মধ্যম বাহারছড়া এলাকার আশিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ শফি ওরফে ইসরাফিল হুদা জয় ওরফে জয়া, মেহেদী হাসান বাবু ও জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটন।

ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী স্বামী-সন্তান নিয়ে ২২ ডিসেম্বর সকালে তারা কক্সবাজার পৌঁছান। এরপর শহরের হলিডে মোড়ের সি ল্যান্ড হোটেলের ২০১ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। বিকেলে সৈকতে গেলে সাড়ে ৫টার দিকে তার স্বামীর সঙ্গে এক যুবকের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

এর জের ধরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার কিছু পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার আট মাসের সন্তান ও স্বামীকে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়। আর তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জোর করে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ওই নারীর অভিযোগ, তাকে শহরের একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানে নিয়ে প্রথমে তিনজন ধর্ষণ করেন। তারপর নেয়া হয় হোটেল-মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেলে। সেখানে আবারও তাকে ধর্ষণ করেন একজন।

অবশ্য ওই নারীর অভিযোগের সঙ্গে নিউজবাংলাকে দেয়া তার স্বামীর বক্তব্যে অনেকাংশে অমিল পাওয়া গেছে। স্বামী বলেছেন, জীবিকার তাগিদে ঘটনার অনেক আগে থেকেই কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন তারা। ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকেও।

পাঠকের মতামত: