কক্সবাজার, বুধবার, ১৮ মে ২০২২

কক্সবাজারে হোটেল-কটেজে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

ঈদের চতুর্থ দিন গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সবচেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটেছে কক্সবাজারে। এক দিনে অন্তত তিন লাখ পর্যটকে গিজ গিজ করছে বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকত। ঈদের ছুটিতে এবার পর্যটকের সংখ্যা বেশি হওয়ার সুযোগে মাঝারি ও নিম্ন মানের আবাসিক হোটেল ও কটেজগুলোতে ভাড়াও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। সেই সঙ্গে সৈকতে মোবাইল চোরের উপদ্রবও বৃদ্ধি পেয়েছে।

কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মুখে পড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভ্রমণকারীরা। এ শ্রেণির লোকজন মাঝারি মানের হোটেল-কটেজেই বেশি অবস্থান নিয়ে থাকে। অভিযোগ উঠেছে, সাগরপারের বিলাসবহুল হোটেলগুলোর কক্ষ ভাড়া নির্ধারিত থাকে। নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যেও ক্ষেত্রবিশেষে রয়েছে বিশেষ ছাড়।

এসব হোটেলগুলোর বুকিংও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে অনলাইনভিত্তিক। এ কারণে এসব পর্যটকের দালালের হাতে পড়তে হয় না। কিন্তু নিম্ন শ্রেণির হোটেল-কটেজগুলোতে কক্ষভাড়া নির্ধারিত থাকে না। আবার ভাড়া নির্ধারিত বলা হলেও তা মানা হয় না। তদুপরি দালালের হাতে পড়েও অনেক পর্যটককে ভাড়ার দ্বিগুণ গুনতে হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) সৈয়দ মুরাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তা ছাড়া সৈকতে সংঘবদ্ধ মোবাইল চোর দলের উপদ্রবও বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে। এসব চোরের দলে বেশির ভাগই রয়েছে রোহিঙ্গা। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন পরিচালিত সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়োজিত কর্মী মাহবুবুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ আমরা বিচকর্মী, সৈকতে নিয়োজিত উদ্ধারকর্মী এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে মোবাইল চোর সিন্ডিকেট নিয়ে। দৈনিক অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনা ঘটছে। ’

তিনি জানান, রোহিঙ্গারা এসব কাজে সাংঘাতিক পারদর্শী। সৈকতে ভিড়ের সুযোগেই চোর সিন্ডিকেট সদস্যরা টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, ‘সৈকতে রোহিঙ্গা আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মোবাইল চোরের সিন্ডিকেট শনাক্তেরও চেষ্টা করা হচ্ছে। ’

পাঠকের মতামত: