কক্সবাজার, শনিবার, ২১ নভেম্বর ২০২০

কক্সবাজার আদালতে আত্মসমর্পণ করছে ওসি প্রদীপ’সহ ৯ আসামী

সাবেক মেজর সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ৯ আসামী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ওসি প্রদীপকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে কক্সবাজার আনা হয়েছে। আগে থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে নেওয়া ৮ আসামীকে কোর্ট হাজতে রাখা হয়েছে।

তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা রয়েছে।

সাবেক মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের আসামীদের আদালতে আনার সংবাদে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
টেকনাফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাং হেলাল উদ্দিনের আদালতে সারেন্ডার করার জন্য জামিন আবেদন দিয়েছেন ৮ আসামির নিয়োজিত আইনজীবী।

বিকেলে এজলাসে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাং হেলাল উদ্দিন আদালতে বসলেই সারেন্ডার কৃত আসামীদের জামিন আবেদন শুনানি হবে এমনটি জানিয়েছেন, আদালতের বেঞ্চ সহকারী আনোয়ারুল ইসলাম।

মেজর সিনহা খুনের ঘটনায় বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে দন্ডবিধি ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় টেকনাফের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন মেজর সিনহার বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

একই দিন দিবাগত রাত সাড়ে ১০ টার দিকে টেকনাফ থানায় হত্যা মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। যার মামলা নং সিআর-৯৪/২০২০।
বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে র‍্যাবকে
মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয়। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তারা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিবে।

মামলার ৯ আসামী হলেন- টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাস, বাহারছরা শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহারকৃত পরিদর্শক (আইসি) লিয়াকত আলী, এসআই নন্দলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এসআই টুটুল, কনস্টেবল মোঃ মোস্তফা।

৩১ জুলাই এর ঘটনায় টেকনাফ পুলিশের দায়ের করা মামলার আসামী মেজর সিনহার সফর সঙ্গী সাহেদুল ইসলাম সিফাতসহ ১০ জনকে হত্যা মামলার সাক্ষী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডে হয়ে কক্সবাজার ফিরছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মুহাম্মদ রাশেদ খান।

কক্সবাজারমুখী প্রাইভেট কারটি টেকনাফের বাহারছরা শামলাপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের চেকপোস্টে পৌঁছালে গাড়িটি পুলিশ থামিয়ে দেয়। সেখানে মেজর রাশেদ নিজের পরিচয় দেন। এরপর উপর দিকে হাত তুলে প্রাইভেট কার থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে বাহারছরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ লিয়াকত আলী পরপর ৩ রাউন্ড গুলি করে হত্যা করে বলে সেনা সদর থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনা তদন্তে গত ২ আগস্ট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোঃ মিজানুর রহমানকে আহবায়ক করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্ত্বা বিভাগ। ৪ আগষ্ট থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবে তদন্ত কমিটি।

পাঠকের মতামত: