কক্সবাজার, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শিশু-কিশোরদের হাতে লেগুনার স্টিয়ারিং!

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁপড়িয়ে বেড়াচ্ছে বিপদজ্জনক ও প্রাণঘাতীযান লেগুনা । এসব লেগুনার অধিকাংশ চালক অপ্রাপ্ত বয়সের কিশোররা। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ।

লোহাগাড়া উপজেলার বটতলী মোটর স্টেশন থেকে চকরিয়া – সাতকানিয়ার কেরানীহাট পযর্ন্ত নামে-বেনামে ২ শতাধিক যাত্রীবাহী লেগুনা চলা-চল করে।
এসব যানবাহনের বেশিরভাগই ফিটনেস ও বৈধ কাগজপত্র নেই; ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীন অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর চালকদের সহকারী হিসেবে কাজ করে শিশুরা।
এসব যানের কারণে মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। এতে অকালে প্রাণহানির ঘটনা বেড়েই চলছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব যান চলাচল করলেও প্রশাসনের নিশ্চুপ ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জনা গেছে, চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কে লেগুনার সাথে দুটি বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটেছে।
সেগুলো হল, গত ২১ মার্চ রাতে কক্সবাজার থেকে আসা লবণ বোঝাই ট্রাকটি চুনতি ফরেস্ট অফিস এলাকায় লেগুনার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে চালকসহ ১২ জনের মৃত্যু হয়।
এছাড়াও গত ২২ জুলাই চকরিয়া হারবাং বুড়ির দোকান এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে লেগুনার চালক, হেলপারসহ ৬ জন নিহত হয় ।
লোহাগড়া নিরাপদ সড়ক চাই ( নিচাই) সদস্য ডা.ওমর ফারুক জানান, লোহাগাড়া থেকে চকরিয়া পর্যন্ত গতিময় সড়ক হওয়াতে লেগুনার মত ছোট ছোট গাড়ি গুলো বারে বারে দূর্ঘটনায় কবলিত হয়, এরই সাথে অপ্রাপ্ত বয়স্ক অদক্ষ চালক তো আছেই।
নিরাপদ সড়ক চাই লোহাগাড়া শাখার পক্ষ থেকে লোহাগাড়া টু চকরিয়া এবং লোহাগাড়া টু কেরানি হাট মিনি বাস সার্ভিস চালুতে প্রশাসনিক ও জনপ্রতিনিধিত্ত্ব উদ্যোগ কামনা করছি।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন আরফাত জানান, কোরবানির ঈদের আগেই চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কে কোন লেগুনা চলতে পারবেনা। এখন মহাসড়কে দুই একটি চললেও তা চুরি করে চালাচ্ছে। লেগুনার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আগামি দুই-একদিনের মধ্য সব লেগুনা চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে ।
স্থানীয়দের মতে, মহাসড়ক গুলোতে লেগুনা চলাচল বন্ধ করলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।

পাঠকের মতামত: