কক্সবাজার, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১

অধিকাংশ স্থানে নেই সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে ৭৯ কিলোমিটারে ৩১ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া::

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের লিংক রোড থেকে ৭৯ কিলোমিটারে রয়েছে ৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। এসব বাঁকের বেশ কয়েকটিতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করলেও অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকেই সাইনবোর্ড নেই। সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ দেশের সর্বদক্ষিণের পর্যটন এলাকায় যাতায়াতের এই সড়কে সম্প্রতি দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত যাত্রীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ সাহাব উদ্দিন জানান, উখিয়ার জাদিমোরা বাঁকটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে সতর্কতামূলক কোনো সাইনবোর্ড নেই। বেপরোয়া গতি নিয়ে চলাচলরত যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ প্রায়ই হচ্ছে। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস শ্যামলী সার্ভিসের চালক শামশুদ্দিন জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইতিমধ্যে কিছু কিছু বাঁকে দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে, যা রাতের বেলায় গাড়ির লাইট পড়লে বোঝা যায়। তবে অধিকাংশ বাঁকে এ রকম সাইনবোর্ড নেই। অসাবধানতাবশত এসব বাঁকে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। হতাহত হয় যাত্রীসাধারণ ও পথচারী।

টেকনাফ কলেজের প্রভাষক এম এ হান্নান জানান, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কটি প্রয়োজনের তুলনায় সরু। বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় দুটি যানবাহন ক্রসিং করতে হয় ঝুঁকি নিয়ে।

উখিয়ার ব্র্যাক কার্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনের সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ ৭৯ কিলোমিটার সড়কের ৩১টি বাঁকের অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড নেই। উখিয়ার ট্রাক মালিক শ্রমিক সমিতির সভাপতি মো. শাহজাহান জানান, বিপুলসংখ্যক পর্যটকের যাতায়াতের পথ কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যতটুকু উন্নয়ন করা উচিত তা হয়নি। তাছাড়া সড়কসংলগ্ন জায়গা বেদখল হয়ে যাওয়ার কারণে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। তবে ঐ কার্যালয়ের কর্মকর্তা আব্দুল জলিল জানান, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের লিংক রোড থেকে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও টেকনাফের উনচিপ্রাং থেকে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন পর্যন্ত দুটি প্যাকেজে প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ এলে এই সড়কে ডিভাইডারের কাজ সম্পন্ন করা হবে। তবে বাঁকা সড়কগুলো সোজা করার ব্যাপারে কোনো প্রকল্প নেওয়া না হলেও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে। সড়কের প্রশস্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাঙনকবলিত এলাকায় গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কে দুর্ঘটনার ব্যাপারে তিনি বলেন, সড়ক অনুপাতে যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলক বেড়ে যাওয়ার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।

পাঠকের মতামত: