কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০

‘কক্সবাজার রেললাইন অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম::

চট্টগ্রাম হয়ে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনটি দ্রুত নির্মাণ হলে আমাদের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে জানিয়ে রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, দেশের ফাস্ট ট্রাক ভুক্ত এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের একটি হচ্ছে এই দোহাজারী-কক্সবাজার রেলওয়ে প্রকল্প।

২০২২ সালের জুনে এটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৪০-৪৫ শতাংশ। এটি বাস্তবায়ন হলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাতায়াতের জন্য খুবই সহজ হবে এবং অধিক সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে আগমন ঘটবে।

এতে এই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও ঘটবে বলে জানান রেলপথ মন্ত্রী।
রেলপথ মন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে আরও বলেন, উক্ত রেললাইনটি বনাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে তৈরি হচ্ছে। এতে হাতি পারাপারের জন্য ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ কার্যক্রমও কিভাবে হচ্ছে সেটিও দেখা হয়েছে। বর্তমানে রেলওয়েতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

এই রেলওয়েকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন রেললাইন নির্মাণ সহ নতুন ইঞ্জিন, কোচ ক্রয় করা, ডাবল লাইন নির্মাণসহ যাত্রীদের সেবা বৃদ্ধিকরণের জন্য বহুমুখী কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া সারাদেশে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত করার চেষ্টায় উন্নয়ন কাজগুলো করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আজ শনিবার সকালে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন নতুন রেললাইন নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন রেলপথমন্ত্রী  মো. নুরুল ইসলাম সুজন এমপি।

এ পরিদর্শনকালে তিনি রেললাইনের নির্মাণ কাজের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখেন এবং কক্সবাজারের কাছে নির্মাণাধীন আইকনিক স্টেশন বিল্ডিং এর কাজও পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজনের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করেন।
একই দিন রাতে চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি। এসময় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সরদার শাহাদাত আলী, দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুনদুম রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মো. মফিজুর রহমানসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দোহাজারি-কক্সবাজার রেল লাইন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার এবং রামু-ঘুমধুম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিমি, রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কিমি এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ হচ্ছে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক, সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রবর্তন হবে। সহজে ও কম খরচে মাছ, লবণ, কাগজের কাঁচামাল, বনজ ও কৃষিজ দ্রব্যাদি পরিবহণ করা যাবে। সূত্র জানায় ১২৮ কিমি রেলপথে স্টেশন থাকছে ৯টি। এগুলো হলো- সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ঈদগাও, রামু, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও ঘুমধুম।

এতে থাকবে কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলক সিগন্যাল সিস্টেম এবং ডিজিটাল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম। সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মাণ করা হবে ৩টি বড় সেতু। এ ছাড়াও এ রেলপথে নির্মিত হবে ৪৩টি ছোট সেতু, ২০১টি কালভার্ট এবং ১৪৪টি লেভেল ক্রসিং। সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া এলাকায় তৈরি হবে একটি ফ্লাইওভার, রামু ও কক্সবাজার এলাকায় দুটি হাইওয়ে ক্রসিং।

পাঠকের মতামত: