কক্সবাজার, শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১

করোনায় শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বিপর্যয়!

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গেলো বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ১১ মাস ধরে প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত রীতিমতো থমকে আছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থী, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতিনিয়ত পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়।
শিক্ষাখাতে হচ্ছে বহুমুখী ক্ষতি।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার অনেক দিন তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ঠিক হলেও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতার কথা চিন্তা করে এখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হয়নি।
একদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়াতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি স্কুল-কলেজগুলোর শিক্ষকদের সরকার যথারীতি বেতন ভাতা দিলেও বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে অনেকগুলো বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের।

একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে প্রাইভেট টিউটরদের বেতন। এতে করে কর্মহীন হয়ে পড়ছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ মানুষ।
করোনায় শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বিপর্যয় ঘটেছে বলছেন কুমিল্লা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত বিকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল ধারার পড়ালেখায় আনা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীরা ঘরে থাকার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মূল্যায়ন পদ্ধতি না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার বাইরে চলে গেছে। তাই এখন অনেককেই অটোপাশের জন্য আন্দোলনে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অধিকাংশ পরিবার আর্থিক অভাবের কারণে গ্রামে চলে গেছে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় ফিরতে পারলেও দরিদ্র্য পরিবারের শিক্ষার্থীরা ফিরতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। করোনায় শুধু শিক্ষার গুণগত মান নয়, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক বিষয়েও এর প্রভাব পড়েছে।

ফেনীর বেসরকারি প্রেসিডেন্সি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, করোনার বেসরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। অনেক শিক্ষক এ দুর্বিপাকে পড়ে অন্য পেশার প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন।

ওমর ফারুক বলেন, শিক্ষকদের চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শিক্ষার্থীদের। করোনায় অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম চালালেও শিক্ষার্থীরা প্রকৃত বাস্তব শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু তাই নয় অনলাইন ক্লাসের উপর নির্ভরশীল হয়ে যাওয়ার ফলে ছোট ছোট বাচ্চাদের মোবাইলের প্রতি আসক্তি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে।

জেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোশিয়নের সভাপতি ও ফেনী সিটি গার্লস হাই স্কুলের অধ্যক্ষ এম. মামুনুর রশিদ বলেন, করোনায় জেলার প্রায় ৪০০টি বেসরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বসাকুল্যে ২০টি বেসরকারি বিদ্যালয় টিকে আছে। বাকি সব স্কুল বন্ধের দারপ্রান্তে। এতে করে প্রায় ১ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন হুমকির মুখে। পাঠদানে নিয়োজিত ৪ হাজার শিক্ষকও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন।

আব্দুর রহমান নামে একজন অভিভাবক বলেন, করোনার সময় আমরা নিজেরাই আর্থিক সংকটে ভুগছিলাম। সারাদেশ লকডাউন হওয়াতে ব্যবসায় অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। যার ফলে ছেলে মেয়েদের প্রাইভেট পড়ানো সম্ভব হয়নি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়সাল ইবনে আবেদীন নামে ফেনীর এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করার বছর না যেতেই করোনার থাবা পড়েছে। ভার্সিটি বন্ধ তাই বাধ্য হয়ে ফেনীতে অবস্থান করছি। সিলেটে আমার বাসা আছে, ফেনীতে বসেই সেই বাসার ভাড়া দিয়ে যাচ্ছি।
এছাড়াও পড়ালেখার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনলাইনে আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা হলেও আমরা ব্যবহারিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। যেটি আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য ভয়াবহ ক্ষতি।

অন্যদিকে গত শনিবার (৩০ জানুয়ারি) এসএসসি ও জেএসসির রেজাল্ট মূল্যায়নের ভিত্তিতে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে করে শতভাগ পাশের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পেয়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। কিন্তু পাশ করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।

পাঠকের মতামত: