কক্সবাজার, রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০

প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ

কুতুপালং এ রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের বিরোধ তুঙ্গে

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া::

কক্সবাজারের বৃহত্তম রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। স্থানীয়দের বসতভিটা, ফলজ ও বনজ গাছের বাগান, শাক সবজ্বি ক্ষেত সহ দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমিজমা রোহিঙ্গা কতৃক জবর দখলের ঘটনার আশু সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। এনিয়ে যেকোন সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনার উৎপত্তি হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবী ক্যাম্প প্রশাসনের বিমাতাসুলভ আচরণের কারণে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

কুতুপালংয়ের বিভিন্ন গ্রামে যুগ যুগ ধরে বসবাসরত ভুক্তভোগী স্থানীয়দের অভিযোগ তারা মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহানুভূতি প্রকাশ করে আশ্রয়
দিয়েছিল। রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে গড়ে উঠেছিল ভ্রাতৃত্ব সুলভ মনোভাব।

গত তিন বছরে তাদের মধ্যে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সম্প্রাতিক সময়ে কুতুপালং ক্যাম্পে দায়িত্বরত ক্যাম্প ইনচার্জের স্থানীয়দের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে এক প্রকার হিংসাত্মক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমিজমা, দোকানপাট, বসতভিটা, বিভিন্ন প্রকার ক্ষেত খামার, মৎস্য চাষ প্রভৃতি একের পর এক জোর পূর্বক দখলে নিয়ে নিচ্ছে। এনিয়ে ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে তিনি স্থানীয় উল্টো শ্মষিয়ে দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় স্থানীয়দের কোন আবেদন নিবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। এমন
বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের ফলে রোহিঙ্গারা উৎসাহিত হয়ে স্থানীয়দের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে।

কুতুপালংয়ের ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান, রশিদ আহমদ, নুরুল ইসলাম, মাহমুদুল হক সাংবাদিকদের অভিযোগ করে জানান, রোহিঙ্গারা যেভাবে তাদের বাড়িভিটায় হানা দিয়ে হিংসাত্মক কার্যকলাপ করছে তা মোটেই শুভনীয় নই। যেহেতু এখানে বসবাসরত প্রায় শতাধিক ভুক্তভোগী পরিবার বাড়িভিটার আনাছে কানাছে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে জীবন জীবিকা নিবার্হ করছে। সহায় সম্বলহীন এসব পরিবারের স্বার্থের প্রতি আঘাত হানলে সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে। তাই অবিলম্বে সৃষ্ট বিরোধীয় মনোভাব
দমন ও স্থানীয়দের মাথা গুজার ঠাঁই টুকু রক্ষার দাবীতে গতকাল বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী
স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে।

স্থানীয়রা জানান, রেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ছত্র ছায়ায় লালিত পালিত ও আশ্রিত ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে কুতুপালংয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা মূলত স্থানীয়দের বাড়িভিটা মৎস্য খামার জবর দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এমনকি তারা স্থানীয়দের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দিচ্ছে।

রেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহমদ বলেন, এধরনের কোন অস্বাভাবিক পরিবেশ এ পর্যন্তও পরিলক্ষিত হয়নি। তবে বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখার আশ্বস্ত করেন।

এব্যাপারে ক্যাম্প ইনচার্জ খলিলুর রহমান জানান, স্থানীয়দের অভিযোগ ভিত্তিহীন। এধরনের কোন ঘটনা ক্যাম্পে ঘটেনি। তিনি বলেন, স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে যে স্বভাবসুলভ পরিবেশ ছিল তা বিদ্ধমান রয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে কিছু অনাকাংঙ্খিত ঘটনা ঘটলেও তা তাৎক্ষনিক ভাবে সমাধান দেওয়া হচ্ছে।

পাঠকের মতামত: