কক্সবাজার, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ফের সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ১

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে চলা এই সংঘর্ষের এক পর্যায়ে রাত ১০টার দিকে গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন।

পৌর কার্যালয়ে গুলিতে নিহত আলাউদ্দিনের (২২) বাড়ি কোম্পানীগঞ্জের চারকালী গ্রামে। তিনি মইনুল হকের ছেলে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সৈয়দ মহীউদ্দিন আবদুল আজিম একজন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রাত পৌনে ১১টার দিকে গুলিবিদ্ধসহ আহত ১২জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে আলাউদ্দিনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ১০টার দিকে পৌর কার্যালয়ে কাদের মির্জার সমর্থকেরা তাকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিলেন। এক পর্যায়ে হঠাৎ তাকে ঘিরে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় বেশ কয়েকজন। এসময় অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ হন। সবমিলিয়ে আহত হন প্রায় ৫০ জন।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, গুলিবিদ্ধসহ আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গুলিবিদ্ধ আরেকজন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন হৃদয়ের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

এরআগে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সন্ধ্যায় দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো বসুরহাট বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এতে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি, চার পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হন। এ সময় পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি গাড়ি ও দোকান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে বসুরহাট রূপালী চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের ওপর মেয়র আবদুল কাদের মির্জার লোকজন হামলা ও মারধর করে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রূপালী চত্বরে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগের একাংশ (মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপ)।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে থানার পশ্চিম পাশের সড়ক (মাকসুদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়) দিয়ে সভায় হামলার চেষ্টা চালায় কাদের মির্জার সমর্থকরা। এ সময় উভয়পক্ষের সমর্থকরা মুখোমুখি হলে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষের লোকজন গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বসুরহাট বাজারে। নারী-পুরুষ এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। অনেকে বসুরহাট বাজারে বিভিন্ন মার্কেটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে দোকানপাট, যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষকারীরা কয়েকটি দোকান ও রাস্তায় থাকা যানবাহনে ভাঙচুর চালায়।

সন্ধ্যায় মিজানুর রহমান বাদল অভিযোগ করে বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সন্ত্রাসী বাহিনীর সশস্ত্র ক্যাডাররা হামলা চালিয়েছে।

তবে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, মিজানুর রহমানের একজন বঙ্গবন্ধু চত্বরের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় আশপাশের ব্যবসায়ীসহ লোকজন তাকে ধাওয়া করেন। ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো লোক জড়িত নন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) রবিউল হক সন্ধ্যায় জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ওসি মীর জাহেদুল হক রনি, এসআই মিজান, জাকির, আবুল কালাম ও আলাউদ্দিন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।

পাঠকের মতামত: