কক্সবাজার, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪

খাবারের দাম দ্বিগুণ, বাস মালিক-হাইওয়ে হোটেলগুলোর সিন্ডিকেট

কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যাচ্ছেন ফয়সাল রহমান। চাকরির সুবাদে মাসে দুই-তিনবার ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াত করেন। হানিফ বাসে রাত ১১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকাল ৮টায় কুমিল্লা শহরের নিকটবর্তী নুরজাহান হাইওয়ে হোটেলে যাত্রাবিরতি দেয় বাসটি। এ সময় বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয়। হোটেলে খেতে বসে খাবারের দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফয়সাল।

ফয়সালের মতো হাজার হাজার যাত্রী প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াত করেন। তাদের অধিকাংশই বাসের যাত্রাবিরতিতে কুমিল্লার হাইওয়ে হোটেলগুলোতে খাবার খান। অনেকে বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়ে খান, কেউ কেউ হালকা নাশতা করেই চালিয়ে নেন। তবে কুমিল্লার হাইওয়ে হোটেলগুলোতে খাবার ও নাশতার দাম শহরের যেকোনো রেস্তোরাঁর চেয়ে বেশি। হাইওয়ে হোটেলগুলোর নাশতা খরচ দিয়ে জেলা শহরের যেকোনো রেস্তোরাঁয় পেট পুরে খাওয়া যায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতের সময় যাত্রাবিরতিতে হোটেলে খাবার খাওয়া ১০ বাসযাত্রীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিনিধির। তাদের প্রত্যেকের অভিযোগ, জেলা শহরের যেকোনো হোটেলের তুলনায় হাইওয়ে হোটেলগুলোতে খাবারের দাম দ্বিগুণ। কোনও কোনও খাবারের দাম তিনগুণ বেশি। বছরের পর বছর যাত্রীদের পকেট কাটছেন হাইওয়ে হোটেলগুলোর মালিকরা। এর কোনও প্রতিকার নেই। কেন প্রতিকার নেই তাও জানা নেই যাত্রীদের।

বাস মালিকদের সঙ্গে হোটেল মালিকদের চুক্তি

চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার একটি হোটেলের কর্মচারী মোবারক হোসেন খান। তিনি বলেন, ‌‘হাইওয়ে হোটেলগুলোতে আমার আসা-যাওয়া নিয়মিত। চাঁদপুরের বাড়িতে যেতে কুমিল্লা হয়েই যেতে হয়। হাইওয়ে হোটেলগুলোতেই বাসগুলো যাত্রাবিরতি দেয়। খাবারের দাম সামান্য বেশি রাখার কথা। কিন্তু এখন তারা যে দাম রাখছে, তা যেকোনো স্থানের হোটেলগুলোর তুলনায় দুই-তিন গুণ বেশি। এই দাম দিয়ে খাবার খাওয়া আসলেই যে কারও জন্য কষ্টকর।’

বাস মালিকদের সঙ্গে হাইওয়ে হোটেলগুলোর সিন্ডিকেটের কারণে খাবারের দাম বেশি জানিয়ে মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমি যেহেতু বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাজ করেছি সেহেতু জানি, বড় একটি সিন্ডিকেটের কারণে খাবারের দাম যাত্রীদের নাগালের বাইরে। হাইওয়ে হোটেলগুলোর মালিকরা মূলত বাস মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোম্পানির বাসগুলো তাদের নির্ধারিত হোটেলগুলোতে থামবে। অন্য কোনও হোটেলে থামবে না। একেকজন হোটেল মালিক একাধিক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেন। যার সঙ্গে যে হোটেলের চুক্তি তার সবগুলো বাস নির্দিষ্ট হোটেলে যাত্রাবিরতি দেয়। এক্ষেত্রে হোটেলগুলো নিজস্ব খাবার তালিকা ও দাম নির্ধারণ করে নেয়। এক হোটেলের খাবারের দামের সঙ্গে অন্য হোটেলের দামের কোনও মিল নেই।’

হাইওয়ে-হোটেল-১
চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের পাশেই হোটেল হাইওয়ে ইন
যেকোনো হোটেলের চেয়ে হাইওয়ে হোটেলগুলোর খাবারের দাম অনেক বেশি বলে জানালেন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী হানিফ বাসের যাত্রী শাহজাহান মিয়া। তিনি বলেন, ‘১৩ বছর বিদেশে থেকে এসেছি। এখন ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছি। দেশে থাকা অবস্থায় যখন যেতাম তখনও এসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম অনেক বেশি ছিল। এখন আরও বেড়েছে। বোধহয় কোনও দিন হাইওয়ে হোটেলগুলোর খাবারের দাম ঠিক হবে না।’

হাইওয়ে হোটেলগুলোর খাবারের দাম নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন হলেও কখনও দামের পরিবর্তন হয়নি। কোনও ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না হোটেল মালিকরা।

তদারকি নেই জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকারের

এদিকে, হাইওয়ে হোটেলগুলোর খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণ কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের। ফলে হাইওয়ে হোটেলগুলোর কাছে জিম্মি যাত্রীরা। বলা চলে বাস মালিকদের সঙ্গে হোটেল মালিকরা চুক্তিবদ্ধ হয়ে একরকম আয়োজন করে যাত্রীদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে ১০৫ কিলোমিটার। এই এলাকাজুড়ে সড়কের পাশে নান্দনিক ৭০টির বেশি হাইওয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ তৈরি করা হয়েছে। এসব হোটেল-রেস্তোরাঁর মূল ক্রেতা বাসযাত্রী। কোনোটি আবাসিক আবার কোনোটি রেস্তোরাঁ। এসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় দৈনিক পাঁচ কোটি টাকার খাবার বিক্রি হয়।

টাকা নেন পরিবহন মালিকরা, ফ্রিতে খান চালক-হেলপার

অন্তত ১০টি হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক, পাঁচ জন বাসচালক-হেলপার, একাধিক যাত্রী ও হোটেলশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাইওয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকদের সঙ্গে পরিবহন মালিকদের মৌখিক চুক্তি হয়। চুক্তিতে বলা হয়, হোটেলে যদি তার পরিবহন যাত্রাবিরতি দেয় তাহলে তাকে একটি টোকেন মানি দিতে হবে। অর্থাৎ প্রতি মাসে একটি খরচ দিতে হবে। সেইসঙ্গে তার পরিবহনের চালক-হেলপারকে ফ্রি খাওয়াতে হবে। অনেক সময় হোটেল প্রতিষ্ঠার আগেই পরিবহন মালিকদের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়। তাই আগেভাগেই আর্থিক লেনদেন সেরে ফেলেন। এতে আর্থিক বিনিয়োগের চাপ পড়ে ভোক্তাদের ওপর। তাই হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের মূল্য বাড়িয়ে বিনিয়োগ তোলেন মালিকরা।

তবে হাইওয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁর কয়েকজন মালিক দাবি করেছেন, তাদের হোটেল-রেস্তোরাঁয় পরিবহন যাত্রী ছাড়া কোনও ক্রেতা নেই। এসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় ৩০-১০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। তাদের খাবার-দাবার, বেতন সবই দিতে হয় মালিককে। তাই দাম বেশি রাখা ছাড়া উপায় নেই।

হাইওয়ে হোটেলে খাবারের দাম দ্বিগুণ

হাইওয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে শহরের যেকোনো হোটেল-রেস্তোরাঁর চেয়ে খাবারের দাম ‍দ্বিগুণ। শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁয় আলুর ভর্তার দাম ১০-১৫, শুঁটকি ভর্তা ২০-২৫, গরুর মাংস ১২০-১৫০, মাছ ৮০-১২০, খাসির মাংস ১৪০-১৬০, মুরগির মাংস ৮০-১২০ ও ডাল-সবজি ২০-৩০ টাকা।

হাইওয়ে-হোটেল-৩
হাইওয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে শহরের যেকোনো হোটেল-রেস্তোরাঁর চেয়ে খাবারের দাম ‍দ্বিগুণ
অপরদিকে, হাইওয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁয় আলু ও ডিম ভর্তা ৪০-১০০, গরুর মাংস ২৮০-৩০০, মুরগির মাংস ২২০-২৫০, মাছ ১০০-৪০০ টাকা। নাশতার জন্য পরোটা ২০-৩০, ডিম ৩০, নান রুটি ৪০-১৫০, সবজি-চিকেন বার্গার ৭০-১৫০, পান ২০-১০০, কাপ দই ৫০-১০০ ও শিঙাড়া-চমুচা ২০-৪০ টাকা। তবে কোনও কোনও হাইওয়ে হোটেলে এসব খাবারের ভিন্নতায় দাম আরও বেশি নেওয়া হয়।

যা বলছেন হোটেল মালিকরা

দাম বেশি রাখার কারণ জানতে চাইলে হাইওয়ে হোটেল নুরজাহানের মালিক মোহাম্মদ রিপন বলেন, ‘দাম নির্ধারণ করে হোটেল মালিক সমিতি। তাদের দামের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা দাম বেশি রাখি কথাটি ঠিক নয়। তবে কোনও কোনও যাত্রী অভিযোগ করলেও অধিকাংশই করেন না।’

কুমিল্লা শহরের কয়েকটি হোটেলের নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদ রিপন বলেন, ‘আপনি যদি ওসব হোটেলের সঙ্গে হোটেল নুরজাহান কিংবা হাইওয়ে ইনের তুলনা করেন তাহলে হবে না। কারণ সেখানকার পরিবেশ আর আমাদের পরিবেশ এক নয়। শহরের হোটেলে স্বাস্থ্যসম্মত মাংসের নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। কিন্তু আমরা নিশ্চয়তা দিই। মান ও পরিমাণ বিবেচনা করে আমরা দাম নির্ধারণ করি। শহরের হোটেলের খাবারের পরিমাণ আর হাইওয়ে হোটেলের খাবারের পরিমাণ এক নয়। তাদের সঙ্গে আমাদের তুলনা চলে না।’

প্রত্যেক হোটেল মালিকের সঙ্গে পরিবহন মালিকদের চুক্তি করতে হয় উল্লেখ করে মোহাম্মদ রিপন বলেন, ‘হোটেলে বাস থামলেই যে খাবার খেতে বাধ্য করা হয় বিষয়টি এমন নয়। যার ইচ্ছে খাবে, যার ইচ্ছে খাবে না। কিন্তু আমাদের সুবিধা সব যাত্রীই ভোগ করেন। নামাজের জায়গা পান, বিশ্রামের জায়গা আছে। এছাড়া নানা সুবিধা তো আছেই। সেগুলোতে আমাদের অনেক টাকা খরচ হয়।’

ক্রেতা না থাকায় অনেক হাইওয়ে হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে, আমাদের অবস্থাও ভালো নয় বলে জানালেন চৌদ্দগ্রাম এলাকার টাইম স্কয়ার হাইওয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক আবুল কালাম আজাদ। খাবারের দাম বেশি নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রেতার অভাবে অনেক হাইওয়ে হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের অবস্থাও ভালো নয়। এর মাঝেও চার বছর ধরে একই দামে খাবার বিক্রি করছি। বাড়তি দাম নিচ্ছি না। শহরের সঙ্গে হাইওয়ে হোটেলের তুলনা চলে না। শহরে আমারও হোটেল আছে, মান ও পরিমাণের কত পার্থক্য, তা জানি। সবাই বলে দাম বেশি নিচ্ছি, কিন্তু আমরা যেসব সেবা দিচ্ছি, তা কেউ বলে না। পরিবহন মালিকদের টাকা দিতে হয়। তাদের প্রত্যেক স্টাফকে ফ্রি খাওয়াতে হয়। হোটেল মালিক সমিতি দাম নির্ধারণ করে দেয়, এর বাইরে আমরা যেতে পারি না।’

নীতিমালার কথা বলছে হোটেল মালিক সমিতি

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাছিরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘একেকটা হোটেল-রেস্তোরাঁয় একেকটি কোম্পানির বাসকে যাত্রাবিরতি দিতে মাসে অনেক টাকা খরচ হয় হোটেল মালিকদের। একেক বাসের তিন জন স্টাফকে প্রতিবার যাত্রাবিরতিতে ফ্রিতে খাওয়াতে হয়। এই দুই কারণেই মূলত হাইওয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম বেশি রাখতে হয়। তার ওপর যাত্রীদের ওয়াশরুম ব্যবহার, সেগুলোর জন্য বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, গ্যাস বিল ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী বেতন দিতে হয়। এছাড়া হোটেল ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন তো আছেই। সরকার যদি একটা নীতিমালা করতো, কোন হোটেলে কতটি বাস যাত্রাবিরতি করবে, তা বেঁধে দিতো, বাস মালিকরা এজন্য হোটেল মালিকদের কাছ থেকে কোনও টাকা নিতে পারবেন না, স্টাফদের টাকা দিয়ে খেতে হবে। তাহলে খাবারের দাম অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসতো।’

হোটেল মালিকদের সঙ্গে সম্পর্ক নেই দাবি জেলা বাস মালিক সমিতির

তবে হাইওয়ে হোটেল মালিকদের সঙ্গে জেলা বাস মালিক সমিতির কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি কুমিল্লা জেলার সভাপতি তাজুল ইসলাম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘মূলত আন্তঃজেলার বাসগুলো হাইওয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁয় যাত্রাবিরতি দেয়। এজন্য বাস মালিকদের সঙ্গে হোটেল মালিকদের চুক্তি আছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হোটেলে থামে বাসগুলো। কেন হোটেলগুলোতে খাবারের দাম বেশি রাখা হয় এ বিষয়ে তারাই ভালো জানেন। এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।’

হাইওয়ে-হোটেল-৪
হাইওয়ে হোটেল মালিকদের দাবি, তাদের হোটেল-রেস্তোরাঁয় পরিবহন যাত্রী ছাড়া কোনও ক্রেতা নেই
ভোক্তা অধিকার বলছে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর পণ্যের দাম নির্ধারণ করে না। জেলা প্রশাসন যদি হাইওয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের দাম নির্ধারণ করে দিতো তাহলে তার ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারতাম। কোথাও নির্ধারিত দামের বেশি নিলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। যদি কোথাও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন হয়, সেক্ষেত্রে ভোক্তারা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নিই আমরা।’

যাত্রীদের অভিযোগ না পাওয়ার দাবি জেলা প্রশাসনের

খাবারের দাম কারা কীভাবে নির্ধারণ করছেন জানতে চাইলে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসন খাবারের দাম নির্ধারণ করে না, নির্ধারণ করে তাদের সমিতি। আমাদের কাছে অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নিই। গত রমজান মাসে হাইওয়ে হোটেলের খাবারের দাম নিয়ে অভিযোগ এসেছিল। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি। নিয়ম আছে, খাবারের তালিকা প্রদর্শন করার। যদি কেউ অনিয়ম করে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে হাইওয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের দাম বেশি রাখার বিষয়ে কোনও অভিযোগ পাননি বলে জানালেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম। তিনি বলেন, ‘হাইওয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের দাম বেশি রাখার বিষয়ে যাত্রীদের অভিযোগ পাইনি। যদি অভিযোগ পাই এবং হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো অনিয়ম করে থাকে তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

পাঠকের মতামত: