কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৩

গাজায় নিষিদ্ধ ফসফরাস বোমা ফেলছে ইসরায়েল

ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ। এরই মধ্যে উভয় দেশে প্রায় ২২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েলে নিহত হয়েছে ১২০০। আর গাজায় প্রাণ গেছে ৯৫০ জনের।

গাজায় মুহুর্মুহু বোমা ফেলছে ইসরায়েল। উপত্যকার কোনো কোনো অঞ্চল পুরো মাটির সঙ্গে মিশে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বলা যায়- যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের এই যুদ্ধ।

শনিবার (৭ অক্টোবর) ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় প্রতিশোধমূলক বিমান ও কামান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। চলমান সংঘাতের পঞ্চম দিনেও ভয়াবহ বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।

এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৯৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরায়েলে নিহত হয়েছে ১২০০। ইসরায়েলি বোমা হামলার কারণে মিসরের রাফাহ ক্রসিং বন্ধ হয়ে গেছে যা অবরুদ্ধ গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার গাজা উপত্যকার জনবহুল এলাকায় বোমা হামলায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সাদা ফসফরাস জ্বালানি অস্ত্র ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছে ফিলিস্তিন। খবর আল জাজিরা এবং আনাদোলু এজেন্সি।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জানিয়েছে, গাজার আল-কারামা এলাকায় গত রাতে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ সাদা ফসফরাস বোমা ফেলেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ইউরোপিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিষ্ঠাতা রামি আবদো সামাজিক মাধ্যম এক্স এ একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেন যে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী গাজা শহরের উত্তর-পশ্চিমে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিষাক্ত সাদা ফসফরাস [বোমা] ব্যবহার করছে।

সাদা ফসফরাস মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক নীতি অনুসারে বেসামরিক কোনো স্থানে থাকা সামরিক লক্ষবস্তুতে এ বোমার ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ ছাড়া মানবাধিকার গোষ্ঠীর মতে, সাদা ফসফরাস সমৃদ্ধ অস্ত্র বেসামরিক এলাকায় ব্যবহার যুদ্ধাপরাধ।

 

১৯৮০ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধক্ষেত্রে সাদা ফসফরাস বোমা ঘনবসতি স্থানে ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এই বোমা যেখানে ছোড়া হয় সেখানে আগুন ধরে যায় এবং আগুন অনেকটা জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়।

পাঠকের মতামত: