কক্সবাজার, শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১

চট্টগ্রাম নগরে ঢোকা ও বের হওয়া বন্ধ

সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) এক জরুরি সভায় নগরে প্রবেশ ও বের হওয়া নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে নগর পুলিশ এই সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে চট্টগ্রাম নগরে সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল পুলিশ। সন্ধ্যার পর ওষুধের দোকান ছাড়া নগরের কোনো দোকানপাট ও বিপণী বিতান চালু রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চট্টগ্রাম নগরে কেউ ঢুকতে পারবেন না। আবার কেউ বের হতে পারবেন না। প্রত্যেককে ঘরে থাকতে হবে। এ জন্য চট্টগ্রাম নগরের পাঁচটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। পুলিশ আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম নগরে দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তারা নগরের দামপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ওই বাড়ি এবং প্রতিবেশী আরও পাঁচটি ভবন লকডাউন করে দিয়েছে। করোনা আক্রান্ত প্রথম রোগীর সংস্পর্শে আসায় তিনজন চিকিৎসকসহ ১৮ জনকে আগেই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৫ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩০ জন ও নারী ৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।

সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন প্রেসব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

ফ্লোরা বলেন, ‘নতুন করে দেশে ৩৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ জন মারা গেছেন। দেশে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ১২ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩ জন।’

তিনি আরো বলেন, ‘নুতন শনাক্তের মধ্যে ৪১-৫০ বছরের কোঠায় ১১ জন এবং ২১-৩০ বছরের কোঠায় আছেন ৬ জন। সারাদেশ শনাক্ত ১২৩ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা শহর ৬৪ জন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২৩ জন এবং এরপরে মাদারীপুরে করোনায় শনাক্তের সংখ্যা বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ১২ জন শনাক্ত হয়েছে।’

ডা. সেব্রিনা বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেই দুদক পরিচালকের করোনা শনাক্ত করা হয়। এরপর তার সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তাদের কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়। বাকি দু’জন হাসপাতালে আনার পর মারা যান।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপর দিনে দিনে সংক্রমণ বেড়েছে।

পাঠকের মতামত: