কক্সবাজার, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১

চারতলা থেকে লাফিয়ে পড়লেও কোনো ‘ক্ষতি’ হয়নি বন্দি রুবেলের

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালাতে নির্মাণাধীন একটি ভবনের চারতলা থেকে লাফ দিয়ে সীমানা প্রাচীর টপকালেও পায়ের কোনো ‘ক্ষতি’ হয়নি পলাতক বন্দি ফরহাদ হোসেন রুবেলের। নরসিংদী থেকে গ্রেফতারের পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা ও এক্স-রে করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় ৬০ ফুট উপর থেকে লাফিয়েও রুবেলের অক্ষত থাকার বিষয়টিকে ‘মিরাকল’ মানছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) পলাশ কান্তি নাথ।

উপকমিশনার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, আসামি রুবেল কারাগারের কর্ণফুলী ভবনের ৫ তলার একটি ফ্লোরে থাকতেন। গত ৬ মার্চ ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে ওই ভবন থেকে নিচে নামেন রুবেল। সেখানে একটা পানির হাউস থেকে তিনি চোখে মুখে পানি দেন। এরপর ডান পাশের গেট দিয়ে বেরিয়ে ওই ভবন থেকে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ গজ দূরে একটি নিমার্ণাধীন ভবনের চারতলায় উঠেন রুবেল। ১৫ মিনিট পর ৫টা ৩০ মিনিটে চারতলা থেকে লাফ দিয়ে কারাগারের নিরাপত্তা প্রাচীরের বাইরে লাফিয়ে পড়েন। এরপর শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনযোগে প্রথমে ঢাকা ও পরে হয়ে নরসিংদীতে ফুফুর বাড়িতে যায় রুবেল।

তিনি জানান, রুবেলের উধাও হওয়ার ঘটনা তদন্তে পুলিশ পাঁচটি আলাদা টিম গঠন করে। এরপর সিসিটিভির ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধানে নামে। আজ সকাল ৯টার দিকে রুবেলকে নরসিংদী থানাধীন রায়পুরার তার ফুফুর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আজ সন্ধ্যায় রুবেলকে নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছায় পুলিশের ওই দল।

পলাশ কান্তি নাথ বলেন, ‘প্রথমে চারতলা থেকে লাফ দেয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। কিন্তু সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাপারটি সত্যি। এত উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে কীভাবে তিনি নরসিংদী গেলেন সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে তার পা এক্স-রে করে দেখেছি, রুবেলের পা ভাঙেনি।’

এই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, ‘রুবেল আগেও এ রকম দুর্ধর্ষ কিছু কাজ করত, অভ্যাসগত ছিনতাইকারী। তার আগে থেকে চারটি মামলা ছিল। শারীরিকভাবে রুবেল খুবই সক্ষম। তার মানসিক শক্তিও বেশি। শারীরিক সক্ষমতার কারণে তাকে অন্যরা ভয় পায়। তবে কিছু বিষয় তারা নিরাপত্তার খাতিরে গোপন রাখছেন। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।’

এর আগে সোমবার (৮ মার্চ) রাতে তদন্ত কমিটির প্রধান ও খুলনা বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) মো. ছগীর মিয়া জানান, কারাগারের সেলে থাকা সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, ভোর ৫টার আগেই ফরহাদ ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে নেন। এরপর তাকে ওই সিসি ক্যামেরায় আর দেখা যায়নি। পরে আরেকটি সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায় কর্ণফুলী ভবনের নিচতলা থেকে রুবেল বের হচ্ছেন। আরেকটি সিসি ক্যামেরা ফুটেজে বন্দি রুবেলকে কারাগারের ফাঁসির মঞ্চের পাশের নির্মাণাধীন ভবন থেকে সীমানা দেয়ালের বাইরে লাফ দিতে দেখা গেছে।

ফরহাদ হোসেন রুবেল নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মীরেরকান্দি গ্রামের শুক্কুর আলী ভাণ্ডারির ছেলে। রুবেল কারাগারের পঞ্চম তলার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে থাকতেন।

কারা সূত্রে জানা গেছে, রুবেল নগরের সদরঘাট থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার আসামি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ৯ ফেব্রুয়ারি রুবেলকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। গত শনিবার (৬ মার্চ) ভোর ছয়টায় আসামিদের হাজিরা গণনার সময় রুবেলের অনুপস্থিতি কারা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে কারা অভ্যন্তরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। গতকাল বন্দি রুবেলের খোঁজে কারাগারে তল্লাশি চালায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিমের সদস্যরা।

এ ঘটনার তদন্তে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি প্রিজন মো. ছগীর মিয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটি সোমবার (৮ মার্চ) থেকে কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আরেকটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে ঘটনার পরপরই রোববার চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার ও ডেপুটি জেলারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে কারারক্ষী ও সহকারী কারারক্ষীকে।

পাঠকের মতামত: