কক্সবাজার, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা একাদশে নেই মেসি-রোনালদো

১৫ বছরে এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল হয়েছে সময়ের দুই সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়া। এবার প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা একাদশেও নেই দুই মহাতারকার একজনও।

দুই তারকার ক্লাবই আগেভাগে বিদায় নিয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে। স্বাভাবিকভাবেই দুই তারকাও তাই চলে গেছেন সেরা একাদশের বাইরে।
নিজেদের ইতিহাসের ৬ষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পথে একক আধিপত্য দেখিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ক্লাব হিসেবে জিতে নিয়েছে এক আসরের সবগুলো ম্যাচই। সেরা একাদশেও দাপট হ্যান্সি ফ্লিক বাহিনীর।

ফুটবল ভিত্তিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম গোলডটকমের বিচারে সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন ক্লাবটির ৮ জন ফুটবলার। টুর্নামেন্টে রানার আপ হলেও পিএসজি থেকে সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন কেবল নেইমার। এছাড়া বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও লিপজিগের ১ জন করে জায়গা পেয়েছেন সেরা একাদশে।
দেখে আসা যাক গোল ডটকমের সেরা একাদশে জায়গা পাওয়া ফুটবলারদের আসরের পারফরম্যান্স।
গোলডটকমের সেরা গোলকিপার বায়ার্ন মিউনিখ অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়্যার।
২০১৮ বিশ্বকাপে বাজে পারফর‌ম্যান্সের পর অনেকেই বলেছিলেন, ফুরিয়ে গেছেন ম্যানুয়েল নয়্যার। তবে সমালোচকদেরকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পুরো আসরজুড়ে দুর্দান্ত এই গোলকিপার।
ফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুন্য দেখিয়েছেন নয়্যার। অনেকেই বলছেন, একা হাতেই তিনি হারিয়ে দিয়েছেন পিএসজিকে। কেবল ফাইনালেই নয়, পুরো আসরজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন নয়্যার। আসরে ৬বার ক্লিনশিট পাইয়ে দিয়েছেন জার্মান ক্লাবটিকে। স্বাভাবিকভাবেই সেরা একাদশে গোলকিপার হিসেবে সেরা পছন্দও এই জার্মান গোলকিপার।

রাইটব্যাকে গোলডটকমের পছন্দ বায়ার্ন ডিফেন্ডার জসুয়া কিমিচ। কেবল ডিফেন্সেই নয়, মিডফিল্ডেও দুর্দান্ত ছিলেন ২৫ বছর বয়সী তারকা। আসরে সবচেয়ে বেশি ২৮টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন কিমিচ। শিরোপানির্ধারণী ফাইনালে কিংসলে কোম্যানের একমাত্র গোলটিরও যোগানদাতা কিমিচ। বলা হচ্ছে, বায়ার্নের আগামীর অধিনায়কও তিনি।

গোলডটকম সেন্ট্রাল ব্যাকে রেখেছে আরেক জার্মান ক্লাব লিপজিগের ডিফেন্ডার ডায়ট উপামেকানোকে। মাত্র ২১ বছর বয়সী এই তরুণ দেখিয়েছেন নিজের সামর্থ্য। দলকে সেমিফাইনালে টেনে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান ব্যাপক। বিশেষ করে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স তাকে ফুটবল বিশ্বে আলাদা পরিচিতি পাইয়ে দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, আগামী মৌসুমেই ইউরোপের শীর্ষ কোন ক্লাবে দেখা যাবে এই ডিফেন্ডারকে।
এছাড়া সেন্ট্রাল ব্যাকে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের আরেক তারকা ডেভিড আলাবা। লেফটব্যাক হিসেবে মৌসুম শুরু করলেও, সেন্ট্রালব্যাকেও নিজের প্রতিভা দেখিয়েছেন আলাবা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা একাদশের লেফটব্যাকে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের সাড়া জাগানো উইঙ্গার আলফোন্সো ডেভিস। কানাডার উদ্বাস্তু শিবির থেকে উঠে আসা এই উঠতি তারকার প্রতি এরইমধ্যে নজর পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের। মাত্র একবছরেই বায়ার্ন মিউনিখের ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে আলফোন্সো। এছাড়া গোলের যোগান দিতে বেশ দক্ষ তিনি। বিশেষ করে বার্সেলোনার বিপক্ষে কিমিচকে তৈরি করে দেয়া বলটি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সেরা একাদশের রাইট উইংয়ে আছেন বায়ার্ন তারকা সার্জি গ্যানাব্রি। আর্সেনাল হয়তো আফসোসে পুড়ছে। কারণ দারুণ প্রতিভাবান এই উইঙ্গারকে ধরে রাখতে পারেনি ইংলিশ ক্লাবটি। তাদের ক্ষতিতে লাভবান বায়ার্ন। দুর্দান্ত একটা আসর কাটিয়েছেন গ্যানাব্রি। আসরে করেছেন ৯টি গোল।
সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে আছেন বায়ার্নেরই আরেকজন। তিনি থিয়াগো আলকান্তারা। খুব বেশি গোলের যোগান দিতে পারেননি তিনি। তবে পুরো আসরে বায়ার্নের মাঝমাঠের কান্ডারি হয়ে ছিলেন। আসরে ৮৩২টি পাস দিয়েছেন এই স্প্যানিশ। তারচেয়ে বেশি নেই আর কারো।
মিডফিল্ডের অন্যজনও বায়ার্ন মিউনিখের। তিনি থমাস মুলার। সেরা একাদশে তারা থাকাটা একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল। আসরে ৪ গোলের পাশাপাশি ২ গোলের অ্যাসিস্ট করেছেন।

গোলডটকম তাদের সেরা একাদশের লেফট উইংয়ে রেখেছে পিএসজি তারকা নেইমারকে। ফাইনালে হেরে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিলেও, বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলারের হাত ধরেই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছিল ফরাসী ক্লাবটি। আসরে খুব বেশি গোল নেই তার। করেছেন মাত্র ৩টি গোল, যোগান দিয়েছেন ৪টিতে। তবে পিএসজির আক্রমণভাগের মূল দায়িত্বটা বেশ ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

স্ট্রাইকিং পজিশনে অবধারিতভাবেই আছেন বায়ার্ন তারকা রবার্ট লেওয়ানডস্কি। অসাধারণ একটা আসর কাটিয়েছেন পোলিশ তারকা। ১১ ম্যাচে করেছেন ১৫ গোল। অল্পের জন্য আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি ভাঙতে পারেননি, তবে দলকে ট্রফিটা জিতিয়েছেন ঠিকই। গোল তো করেছেনই, ৫টি গোলের যোগানও দিয়েছেন লেওয়ানডস্কি।
সেরা একাদশের অন্য স্ট্রাইকার বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের তারকা এর্লিং হ্যালান্ড। ক্লাব আগেভাগে বিদায় নিলেও, নিজের গোলক্ষুধার প্রমাণ দিয়েছেন এই তরুণ। মাত্র ৮ ম্যাচে ১০ গোল করে তাই আসরের সেরা একাদশে আছেন হাল্যান্ডও।

পাঠকের মতামত: