কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০

ছাত্রদের বিক্ষোভে উত্তাল হাটহাজারী মাদরাসা

বিরল ঘটনা। একেবারেই অনাকাঙ্খিত। নানা ধরনের অসন্তোষের প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন মাদরাসায় টুকটাক ঝামেলা হয়, ক্লাস বন্ধ থাকে। কিন্তু এভাবে হাজার হাজার ছাত্রদের মিছিলের ঘটনা কওমি মাদরাসার ইতিহাসে বিরলই বলা চলে। তবুও এই দৃশ্য দেখতে হলো। তাতে অনেকে শঙ্কিত, কেউ আবার উচ্ছ্বসিত।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জোহরের নামাজের পর পর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা বেশ কয়েকটি দাবি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাস বর্জন ও অন্যান্য কাজ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তারা।

ছাত্রদের দাবিগুলো হলো- হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীকে অনতিবিলম্বে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার, ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বাস্তবায়নে সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ, বয়োবৃদ্ধ আল্লামা শফী শারীরিকভাবে অসুস্থ ও চলতে অক্ষম হওয়ায় তাকে মহাপরিচালকের পদ থেকে অব্যহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানানো, মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগ কিংবা অপসারণের ক্ষমতা মজলিসে শুরাকে প্রদান, বিগত শুরার হক্কানি আলেমদের পুনরায় নিয়োগ এবং শুরা থেকে বিতর্কিত ও চিহ্নিতদের বহিষ্কার।

বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা মাদরাসার মাইক থেকে এসব দাবির কথা জানান দিতে থাকে। এ সময় বিভিন্ন রকমের স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো মাঠ। বিক্ষোভের সময় মাদরাসার গেট বন্ধ রাখা হয়। আল্লামা শাহ শফী বিক্ষোভের সময় মাদরাসায় নিজ কক্ষেই অবস্থান করছিলেন। তবে হাটহাজারী মাদরাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালক মাওলানা আনাস মাদানী মাদরাসায় ছিলেন না, বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা তার রুমের আসবাব ভাঙচুর করেছে। অপরদিকে গেটের বাইরে পুলিশের সতর্ক অবস্থা রয়েছে।

মাদরাসার অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ এই কওমি মাদরাসায় অসন্তোষ ও পারস্পরিক মতপার্থক্য চলে আসছিল। এর সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব ও বেফাকের দুর্নীতিজনিত অস্থিরতা নিয়ে উদ্ভুত ঝামেলা না মেটানোয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছিল।

মাওলানা আনাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো- হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষকদের নিয়োগ-পদায়নে দুর্নীতি ও হস্তক্ষেপ, হেফাজতে ইসলাম, বেফাক-হাইয়ায় প্রভাব বিস্তার, আল্লামা বাবুনগরীকে নানাভাবে হয়রানি, নাজিরহাটসহ স্থানীয় কিছু মাদরাসায় নিয়োগ নিয়ে পিতা আল্লামা শফীকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপব্যবহার করেছে। এসব কারণে মাদরাসার ছাত্রসহ স্থানীয় আলেমদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেই ক্ষোভেরই বিস্ফোরণ হলো আজকের এই অবস্থান বিক্ষোভ।

বিক্ষোভের কারণ প্রসঙ্গে হাটহাজারী মাদরাসার একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা কোনোভাবেই বুঝতে পারিনি ছাত্ররা এমনভাব মাঠে নেমে আসবে। মাদরাসায় সিনিয়র সব শিক্ষকরা উপস্থিত রয়েছেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা শিক্ষকদের রুমের সামনে অবস্থান নিয়েছে। আসলে, অব্যাহত জুলুম, পদে পদে সীমালংঘন, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের কারণে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এভাবে ঘটিয়েছে ছাত্ররা। বিশেষ করে হাইয়াতুল উলইয়ার পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দিতে গরিমসি এবং পরীক্ষার্থীদের আনাসবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে মাদরাসায় অবস্থানের অনুমতি দিতে বিলম্ব করায়- বিক্ষোভের অন্যতম কারণ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, মাদরাসার সব গেট বন্ধ করে রাখার পাশাপাশি শিক্ষকদেরও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। পুলিশ-প্রশাসন যাতে মাদরাসার ভেতরে ঢুকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করে সেজন্য ছাত্ররা মসজিদের মাইকে বারবার মাইকিং করছেন। ছাত্রদের দাবি, এটা সরকার বিরোধী কোনো আন্দোলন নয়।

পাঠকের মতামত: