কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১

ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

আজ ৪ জানুয়ারি, সোমবার। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৪৮ সালের এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।

ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগের জন্ম আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার এক বছর আগে। শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী এবং সোনার বাংলা বিনির্মাণে কর্মী গড়ার পাঠশালা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সৃষ্টি লগ্ন থেকেই বিদ্যার সঙ্গে বিনয়, শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষা, কর্মের সঙ্গে নিষ্ঠা, জীবনের সঙ্গে দেশপ্রেম এবং মানবীয় গুণাবলির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পদার্পণ করলো পথচলার ৭৩ বছরে।

এদিকে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে প্রতিবছর ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সীমিত পরিসরে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা। আজ বিকেল ৪টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে গণভবন থেকে যুক্ত হবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৭টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, ৮টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং সকাল ৯টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি টিম শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসহ প্রতিটি ইউনিটিতে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তথ্যমতে, ১৯৪৮ সালের (৪ জানুয়ারি) আজকের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। তার নেতৃত্বেই ওইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবের প্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এক ঝাঁক মেধাবী তরুণের উদ্যোগে সেদিন যাত্রা শুরু করে ছাত্রলীগ। ৭৩ বছরে ছাত্রলীগের ইতিহাস হচ্ছে জাতির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়ন, স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনা, গণতন্ত্র প্রগতির সংগ্রামকে বাস্তবে রূপদানের ইতিহাস। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগ্রামে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।

১৯৪৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল হিসেবে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগে’র আত্মপ্রকাশ ঘটে, যা পরে আওয়ামী লীগ নাম ধারণ করে এ দেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়। এ প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বাঙালি জাতির ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে বাঙালির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, ৫৪-র সাধারণ নির্বাচনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ পরিশ্রমে যুক্তফ্রন্টের বিজয় নিশ্চিত, ৫৮-র আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ৬২-র শিক্ষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা, ৬৬-র ছয় দফা নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া, ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, ৬৯-র গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে পাক শাসকের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং বন্দিদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করা, ৭০-র নির্বাচনে ছাত্রলীগের অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে ছাত্রলীগের অংশগ্রহণ, স্বাধীনতা-পরবর্তী সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রে উত্তরণসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগের অসামান্য অবদান দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে বিভিন্নপর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরে জাতীয় রাজনীতিতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এখনো দিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমান জাতীয় রাজনীতির অনেক শীর্ষনেতার রাজনীতিতে হাতেখড়িও হয়েছে ছাত্রলীগ থেকে। উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এদিকে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেশকিছু সাংগঠনিক নির্দেশনা দিতে পারেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশেষ করে ভারমুক্ত হওয়ার পর সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ঠিক কতদিন দায়িত্ব পালন করবেন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনের ঠিক কতদিন পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে বার্তা দিতে পারেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

এদিকে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষুব্ধ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতারা। তাদের অভিযোগ, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের একক সিদ্ধান্তে চলছে সংগঠন। বণ্টন করা হয়নি কার্যনির্বাহী সংসদের সিনিয়র নেতাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব।

একই সাথে সম্মেলন ছাড়াই প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জেলা-উপজেলায় নতুন কমিটি ঘোষণা এবং বিলপ্ত। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদককে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিতে পারেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

পাঠকের মতামত: