কক্সবাজার, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০

ছেঁড়াদ্বীপের মত সেন্টমার্টিনেও পর্যটক সীমিত করার দাবি

সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপ অংশে পর্যটকদের যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এছাড়া পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় সেন্টমার্টিনে ছয় ধরনের কার্যক্রম বন্ধেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

তাদের দাবি, দ্বীপটিকে রক্ষায় সেন্টমার্টিনেও পর্যটক গমন সীমিত করার। আর নির্দেশনা কঠোরভাবে কার্যকরের মাধ্যমে সেন্টমার্টিনের সামুদ্রিক প্রবাল এবং জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে ছোট ছেঁড়াদ্বীপ। নীল জলরাশির মাঝখানে প্রবাল পাথরের তৈরি দ্বীপটি। প্রায় তিন বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপে চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রবাল, পাথর, ঝিনুক, শামুকের খোলস, চুনাপাথর। যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। তাই সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারে করে আধঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে অনেকেই ছুটে যান নির্জন এ দ্বীপে। কিন্তু পর্যটকদের পদচারণায় ক্ষতি হচ্ছে সামুদ্রিক জীবিত প্রবাল ও জীব-বৈচিত্র্যের।

তাই প্রবালগুলো সংরক্ষণে ছেঁড়া দ্বীপে পর্যটকদের যাওয়া নিষিদ্ধ করে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। যা বাস্তবায়নে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কোস্ট-গার্ডকে। এই নির্দেশনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।
এ প্রসঙ্গে ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি পুরো সেন্টমার্টিনেই পর্যটক নিষিদ্ধ করা উচিত।
এনভায়রনমেন্ট পিপলের প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মাজিদ বলেন, পর্যটকদের কারণে মাটি, বায়ু, পানি সবই দূষিত হয়ে যাচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানালেন, নির্দেশনা কার্যকরের মাধ্যমে দ্বীপের সামুদ্রিক প্রবাল এবং জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা করা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রবাল দ্বীপটির যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা হয়তো এখনো উদ্ধার করা সম্ভব।
এ ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে মোটর সাইকেল ও ইঞ্জিনচালিত গাড়ি, রাতে আলো বা আগুন জ্বালানো, কোলাহল বা উচ্চস্বরে গান বাজনা আয়োজন এবং জাহাজে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

পাঠকের মতামত: