কক্সবাজার, রোববার, ৬ ডিসেম্বর ২০২০

টেকনাফে স্থানীয় যুবককে গুলি করে হত্যা করলো রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী

কক্সবাজারের টেকনাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ত্রাস জকির ডাকাতের গুলিতে আবদুর শুক্কুর (৩০) নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফের শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়টি নিশ্চত করে টেকনাফের নয়াপাড়া এপিবিএন এর পুলিশ চৌকির (ইনচার্জ) ইন্সপেক্টর রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে টেকনাফের শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দিকে যাওয়ার সময় ক্যাম্পের প্রধান সড়কের রোহিঙ্গা জকির ডাকাতের নেতৃত্বে একদল ডাকাত শুক্কুরকে ধাওয়া করে। এসময় পালানোর চেষ্টাকালে তাকে গুলি বর্ষণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সে মারা যায়। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

তবে নিহতের চাচা আবুল হাশিম দাবি করেন, ‘সকালে জাকির ডাকাতের নেতৃত্বে একদল ডাকাত অতর্কিতে অস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িতে এসে কোনও কথা ছাড়ায় শুক্কুরকে টেনে-হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে তিনটি গুলি করে ক্যাম্পের দিকে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শুক্কুর মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘ডাকাতরা চলে যাওয়ার সময় আমাকেও হত্যার হুমকি দিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত এপিবিএন সদস্য ও টেকনাফ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

রোহিঙ্গারা জানান, জকির ডাকাতের নেতৃত্বে একদল ডাকাত ক্যাম্পের পুরো মানুষদের জিম্মি করে রেখেছে। ভয়ে ক্যাম্পের লোকজন মুখ খুলছে না। পাহাড়ি এলাকায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির হওয়ায় চিহ্নিত কিছু রোহিঙ্গা ডাকাত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অবস্থান করে আসছে। সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন সময় লোকজনকে নিয়ে ইয়াবা চোরাচালান, ছিনতাই, অবৈধ অস্ত্রের মজুত, মুক্তিপণ ইত্যাদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গা ডাকাতের গুলিতে এক স্থানীয় ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তবে কী কারনে এ ঘটনা ঘটেছে সেটি জানা যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

পাঠকের মতামত: