কক্সবাজার, শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০

ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন শুরু

আগামী ডিসেম্বরে পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন শুরু হবে। প্রথম ধাপে ২০-২৫টির মতো পৌরসভায় ভোট হবে। পর্যায়ক্রমে আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে সব পৌরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এবার পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ পুরোটাই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) হবে। গতকাল সোমবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের সভা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা এসব তথ্য জানান। কমিশন সভায় বঙ্গবন্ধুর সময় প্রণীত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২ এর কোনো পরিবর্তন না করে আইনটি বাংলায় রূপান্তরের সিদ্ধান্ত হয়।

পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে সিইসি বলেন, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে যেসব নির্বাচন ডিউ হবে সেগুলো আমরা ডিসেম্বরের শেষের দিকে করে ফেলব। এ রকম প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। পৌরসভার নির্বাচন ইভিএমে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন বা সাধারণ পরিষদ নির্বাচন যেগুলো আছে সেগুলোয় ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না। পৌরসভা নির্বাচনের পর যদি ক্যাপাসিটি থাকে তাহলে কিছু নির্বাচনে হয়তো ইভিএম হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত যেসব পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন যেগুলো ডিউ হবে আমরা সেগুলো করব। এ সময় পৌরসভার ভোট হবে ২০-২৫টির ওপরে। মে মাসের মধ্যে সব পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। একসঙ্গে নির্বাচনের লোড নেওয়া যাবে না। ধাপে ধাপে করা ভালো।

কয়টি ধাপে পৌরসভার ভোট হবে এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, কতগুলো ধাপে হবে সেটা এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে আমরা ধারণা করছি পাঁচটি ধাপ লাগবে। ইভিএমের বিষয়টি বিবেচনা করে ধাপে ধাপে করা হবে। জানুয়ারিতে হয়তো আবার নতুন তফসিল করতে হতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, সবগুলো পৌরসভার মেয়াদ একসঙ্গে পূর্ণ হবে না। এ কারণে সব পৌরসভায় একসঙ্গে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। পুরো পৌরসভা কি ইভিএমে ভোট হবে- এমন প্রশ্নে কমিশনার শাহাদাত হোসেন বলেন, সবগুলো না বলে যতদূর সম্ভব বলতে চাচ্ছি। কোনো কারণে দু-চারটা যদি না করতে পারি এগুলো হয়তো ইভিএম হবে না। তবে নীতিগতভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ইভিএমে হবে।

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, আমরা চাচ্ছি পৌরসভা নির্বাচন ইভিএমে করব। এজন্য আমাদের ইভিএমে ক্যাপাসিটিটা দেখতে হবে। দেশের ৩২৯টি পৌরসভার মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের পর ২০১৫ সালে প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হয় পৌরসভায়। সেবার ২০টি দল ভোটে অংশ নেয়।

এদিকে নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ পরিবর্তন করে নতুন করে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন-২০২০ প্রণয়নের পরিকল্পনা করলেও তা থেকে সরে এসেছে। এ বিষয়ে সিইসি নুরুল হুদা বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আমরা বাংলায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে ভেটিংয়ের জন্য। বিষয়টা নিয়ে একটু কনফিউশন আছে। এটা প্রথমে চিন্তা ছিল আইন হবে। ওইভাবে আমরা আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়ে ছিলাম। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটা সিদ্ধান্ত আসে, বঙ্গবন্ধুর সময় যেসব আদেশ হয়েছিল তা পরিবর্তন করা যাবে না। সংশোধন করা যাবে। আমরা সেই আলোকে বিষয়টির প্রতি সম্মান রেখে সেভাবে করেছি। এটা সংশোধন হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ আমরা করেছি। ওই আদেশে ইংরেজি থেকে বাংলায় করার বিষয়টি রয়েছে। সেই কাজটি আমরা করছি।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের অংশটি আরপিও থেকে বের করে নতুন আইন করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বিষয়টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অনেকগুলো ক্ষেত্রে পলিটিক্যাল পার্টির নমিনেশনের বিষয়টি আছে। এটা আরপিওতে অ্যাডজাস্ট করা যায় না। এসব কারণে কেবল রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের অংশটি নিয়ে আমরা প্রস্তাব করেছি আলাদা আইন করব। আমাদের যুক্তি হলো, এটা ২০০৮ সালে করা হয়েছে। জাতির পিতার আদেশের স্পিরিটের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ২০০৯ সালে একটি অধ্যায় এখানে ঢোকানো হয়েছে। এটি আলাদা করা হলে আরপিওর মৌলিকত্বে কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে যদি সরকার মনে করে ওটা আলাদা আইন করার দরকার নেই তবে আরপিওর মধ্যেই প্রতিস্থাপন হবে।

পাঠকের মতামত: