কক্সবাজার, শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

তালেবান ইস্যুতে কী কথা হলো পুতিন-মোদির

আফগানিস্তান নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংবাদসংস্থা এএনআই-এর খবর অনুযায়ী, ৪৫ মিনিট ধরে বিস্তারিত আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে।
তালেবান ইস্যুতে কী কথা হলো পুতিন-মোদির

এর আগে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে আফগানিস্তানসহ একাধিক ইস্যুতে ফোনে কথা বলেন নরেন্দ্র মোদি।

রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি টুইট করে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বিস্তারিত, প্রয়োজনীয় মতবিনিময় হলো কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ভারত-রুশ সহযোগিতা সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা ব্যাপারেও আমরা কথা বলেছি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গভীর আলোচনা চালিয়ে যেতে সহমত হয়েছি আমরা।

আগামী বৃহস্পতিবার সংসদে আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্র। ভারত ইতিমধ্যে কাবুলের কূটনৈতিক মিশন ফাঁকা করে সেই ভবন  বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানে তালেবান হানার অভিযোগও উঠেছিল।

কিন্তু রাশিয়া এখনও আফগান রাজধানীতে নিজেদের কূটনৈতিক মিশন ফাঁকা করেনি। নিজেদের কূটনীতিককে সেখানে রেখে দিয়েছে। তালেবানের সঙ্গে সব যোগাযোগের রাস্তাও খোলা রেখেছে।

রাশিয়ার খাতায় তালেবান জঙ্গি সংগঠন হলেও বর্তমানে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের হারে কিছুটা আনন্দ দেখাচ্ছে রাশিয়া। আফগানিস্তানে নিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত বলেছেন, তালেবানি শাসনে আগের সরকার থেকে বেশি ভালো পরিস্থিতি কাবুলে। এতেই অনেকে ভাবতে থাকেন, তাহলে কি তালেবানের সঙ্গে হাত মেলাবে রাশিয়াও?

আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান নিয়োগ দিল তালেবান
ইতিমধ্যেই চীন জানিয়েছে যে তারা তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। কান্দাহারে গিয়ে মোল্লা বারাদারের সঙ্গে দেখাও করে এসেছেন আফগানিস্তানে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। এই আবহে ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এই আবহে বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়া যদি তালেবানের পক্ষে ঝুঁকে যায়, তাহলে কতকটা বেকায়দায় পড়তে পারে ভারত। এই পরিস্থিতিতে আপাতত সবাই ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে তালেবান ইস্যুতে।

প্রসঙ্গত, তাজাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্ত রয়েছে। এদিকে এই তাজাকিস্তানেই আবার রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি আছে। এই দেশে বিমান ঘাঁটি রয়েছে ভারতেরও। তাজিকিস্তান আবার রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশনের সদস্য। তাই রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা অনেকাংশেই এখন তালেবানদের হাতে নির্ভরশীল।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, দ্য ওয়াল

পাঠকের মতামত: