কক্সবাজার, রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১

তিন ভাই মিলে চুরি, অবশেষে ধরা

চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান এলাকার একটি বাসায় চুরির ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তারা হলেন- মো. মঈনুদ্দিন প্রকাশ মাইন উদ্দিন প্রকাশ মনির (৩২), তার স্ত্রী মোছাম্মৎ নয়নতারা আক্তার (২১), মো. রহিম (৩০) ও মো. জাহাঙ্গীর (৩০)। রবিবার (২৪ অক্টোবর) রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১১ অক্টোবর নগরীর জামালখান এলাকার একটি ভবনের ৩য় তলার একটি বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই বাসা থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা, ৩১০০ মার্কিন ডলার, ৩৫টি ডায়মন্ডের রিং, চার জোড়া ডায়মন্ডের কানের দুল, ৫টি ডায়মন্ড মিশানো স্বর্ণের বেসলেট (যার আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ টাকা) চুরি হয়। এ ঘটনায় আবরার বেগম নামে ওই বাসার মালিক বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ গত ১৩ অক্টোবর নগরীর কাজির দেউড়ির নসিমন ভবনের সামনে থেকে ইব্রাহিম খলিলকে (২৭) গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে খলিল তার ভাইদের সাথে মিলে জামালখানের চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানায়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পরে তার দেয়া তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে গতকাল রবিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে কাজির দেউড়ি এলাকা থেকে মো. মঈনুদ্দিন প্রকাশ মাইন উদ্দিন প্রকাশ মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় মনির নগদ ৩ লাখ টাকা, ৩১০০ মার্কিন ডলার চুরির বিষয়টি স্বীকার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, চুরি করা ডলারের মধ্যে ৩০০ ডলার তার আপন ভাই মো. রহিমকে ও তার আরেক সহযোগী রিক্সচালক মো. জাহাঙ্গীরকে দিয়েছে। বাকি মালামাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তার স্ত্রীর কাছে রেখে এসেছে। রাতেই তাকে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী মোছাম্মৎ নয়নতারা আক্তারকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়।

এসময় নয়নতারার হেফাজত থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ১৫টি ডায়মন্ডের রিং, ৯টি ডায়মন্ডের কানের দুল, ২টি ডায়মন্ড মিশানো স্বর্ণের বেসলেট, ১টি ডায়মন্ড মিশানো শাড়ির ক্লিপ, উদ্ধার করা হয়। পরে মাঈনুদ্দীন ও তার স্ত্রীকে নিয়ে নগরীর ব্যাটারি গলির একটি ভাড়া ঘর থেকে মো. জাহাঙ্গীর (৩০) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ৪০০ মাকিন ডলার জব্দ করা হয়। এরপর গোয়ালপাড়া এলাকা থেকে মো. রহিম নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে জব্দ করা হয় ৩০০ মার্কিন ডলার।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দীন পূর্বকোণকে বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের তিনজন আপন ভাই ও অন্যজন রিক্সচালক। তারা সকলে সংঘবদ্ধ পেশাদার চোর এবং গ্রিল কাটা ও তালা কাটা চোরদলের সক্রিয় সদস্য। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন বাসায় জানালার গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে মূল্যবান মালামাল চুরি করে। তারা প্রায়ই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। মঈনুদ্দীন অন্ধকার বাসা দেখে পাইপ বেয়ে উঠে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে। রহিম ও জাহাঙ্গীর এলাকা পাহাড়া দেয়।

তিনি আরো বলেন, জাহাঙ্গীর এর আগে ছিনতাইয়ের মামলায় ৮ বছর সাজা ভোগ করে কিছুদিন আগে কারাগার থেকে বের হয়। বের হয়ে ছিনতাই ছেড়ে দিয়ে চুরির পেশায় জড়িয়ে পড়ে।

পাঠকের মতামত: