কক্সবাজার, শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১

তেল ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত কমপক্ষে ৪০

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আফরিনের এক জ্বালানি তেল ট্যাংকারে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৪০ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা।

মঙ্গলবার তুর্কি নিয়ন্ত্রিত আফরিন শহরের এক ব্যস্ত সড়কে তেল ট্যাংকারে ওই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ভয়াবহ শব্দে বিস্ফোরিত হয় ট্যাঙ্কারটি এবং সঙ্গে সঙ্গে এতে আগুন ধরে যায়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য যানবাহন ও দোকানগুলোতেও। ফলে এত ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে কোনও গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে এ হামলার জন্য কুর্দি সংগঠন কুর্দিশ পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটকে (ওয়াইপিজি) দায়ী করেছে আঙ্কারা সরকার।

নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) একটি অঙ্গ সংগঠন এই ওয়াইপিজি। ১৯৮৪ সাল থেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছে পিকেকে। তুরস্কসহ অনেক পশ্চিমা দেশই তাদের ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ বলে মনে করে।

সিরিয়ান মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের ওই হামলায় তেল ট্যাংকারটির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গাড়ি ও দোকান পুড়ে গেছে। এসময় ঘটনাস্থলের বেশিরভাগ মানুষ দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। অনেকেই গাড়িতে আটকে থাকা অবস্থাতেই পুড়ে মারা গেছেন। আফরিনের এক হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কমপক্ষে ১০টি আগুনে পোড়া মৃতদেহ কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখতে দেখা গেছে। এছাড়া সেখানে থাকা এক অ্যাম্বুলেন্সেও দুটি দগ্ধ মরদেহ দেখা যায় বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

এ হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আফরিনের বাসিন্দাদের প্রতি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের জন্য রক্ত দান করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার কর্মীরা।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়ায় তুরস্কের সমর্থনপুষ্ট বিরোধী দলীয় যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে এর আগেও এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার জন্য বরাবরই কুর্দি যোদ্ধাদের দায়ী করে থাকে আঙ্কারা সরকার।

পাঠকের মতামত: