কক্সবাজার, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১

দেশের বৃহত্তম রেল সেতুর উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা

যমুনা নদীর উপরে নির্মিত দেশের বৃহত্তম রেল সেতু বঙ্গবন্ধু ডুয়েল গেজ রেল সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (২৯ নভেম্বর) ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এই রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যমুনা নদীর ওপরে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মিত হচ্ছে এই রেললাইন সেতু। নির্মিত হলে এটি হবে দেশের বৃহত্তম রেল সেতু।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর কয়েকশ’ গজ উত্তরে নতুন সেতুটি নির্মাণ হবে।

এদিকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হলেও সংশোধিত প্রকল্পে সময়সীমা দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

সেতুর দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। যদিও ডাবল লাইন হওয়ায় সেতুটির দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৬০ কিলোমিটার বিবেচনা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

আর প্রকল্প ব্যয় প্রথমে ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা জাপানের সহযোগিতা সংস্থা জাইকা দিচ্ছে। বাকিটা অর্থায়ন করছে সরকার। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৪৩১ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

আরও জানা গেছে, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে দিনে ৪৪টি ট্রেন চলাচল করে। সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় সেতু পার হতে ট্রাফিক সিগন্যালে বেশ খানিকটা সময় নষ্ট হয়। ওজন সীমাবদ্ধতার কারণে ভারী পণ্যবাহী ট্রেন চলতে পারে না। এ সেতুতে ট্রেনও পূর্ণ গতিতে চলতে পারে না। ঈদের সময় সূচির বিপর্যয়ে পড়ে ট্রেন।

নতুন ডাবল লাইন সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। রাজধানীর সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থারও অনেক উন্নয়ন হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কামরুল আহসান গণমাধ্যমকে বলেন, এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাইট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা আসতেও শুরু করেছেন। মূল সেতুটি দুটি প্যাকেজের আওতায় বানানো হবে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু রেল সেতু বাস্তবায়িত হলে চীন, মিয়ানমার, ভারত, ভুটান, নেপালসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগের অবকাঠামোর ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বহুগুণে বেড়ে যাবে রেল যোগাযোগের সামর্থ্যও।

এ সেতুর ওপর দিয়ে কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটার গতিতে দু’টি ট্রেন পাশাপাশি চলাচল করতে পারবে। দ্রুতগতিতে রেল যোগাযোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরো সহজ হবে এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার আরো উন্নয়ন ঘটবে।

রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডাবল লাইন ডুয়েল গেজ রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হতে যাচ্ছে। এই সেতু চালু হলে দ্রুত গতিতে দুটি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। এর মাধ্যমে কন্টেইনারসহ সব ধরনের মালামাল পরিবহন করা সম্ভব হবে।

পাঠকের মতামত: