কক্সবাজার, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০

নাছোড় ট্রাম্প, স্ত্রী মেলানিয়ার অনুরোধও উপেক্ষা!

দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকায় নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন জো বাইডেন। তবে এই সহজ সত্যটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হার মানতে রাজি নন। অবশেষে তাকে বোঝাতে এ বার আসরে নেমেছেন তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প। তবে তারপরেও ট্রাম্প নাছোড় আচরন করছেন।

ট্রাম্প ঘনিষ্ঠদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন মেলানিয়া। তিনি তার স্বামীকে বুঝিয়েছেন, ‘পরাজয়কে মেনে নাও, হার স্বীকার করে নাও।’ সূত্রের দাবি, মেলানিয়া এটাই ট্রাম্পকে বলেছেন, তিনি যেমন তাকে বলে থাকেন। সূত্র আরও জানিয়েছে, এর আগে হার স্বীকার করে নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন তার জামাই তথা শীর্ষ পরামর্শদাতা জারেদ কুশনার।

হারলে দেশছাড়া হতে হবে তাকে, প্রচারে এমনই বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিন্দুকদের প্রশ্ন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পরও হোয়াইট হাউস থেকে যার বেরোনো নিয়ে অনিশ্চয়তা তুঙ্গে, তাকে দেশান্তরী করবে এমন সাধ্য কার? অবশ্য শনিবারের পর ডেমোক্র্যাটদের ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী’ মেজাজ স্পষ্টতর। তাদের ধৈর্যের সীমা যে অনন্ত নয়, সে মর্মে হুঁশিয়ারি জারি হয়েছে ইতিমধ্যে। তা ছাড়া, প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট জো বাইডেন আগেই জানিয়েছিলেন, মেয়াদ শেষের পরও ট্রাম্প যদি সৌজন্য মেনে হোয়াইট হাউসের দখল না ছাড়েন, তা হলে মার্কিন সেনা বলপ্রয়োগে বাধ্য হবে।

এখানেই আবার জটিলতার আশঙ্কা। আসলে গত আগস্টে আমেরিকার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান, জেনারেল মার্ক মিলি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া বা ভোট সংক্রান্ত কোনও বিতর্কের নিষ্পত্তিতে মোটেও অংশ নেবে না সেনাবাহিনী। সংবিধানগত ভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী সব সময়ই ‘অ-রাজনৈতিক’, আর ভবিষ্যতেও তাই থাকবে। আসলে রিপাবলিকানদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ট্রাম্প তখন থেকেই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, ভোটে হারলে ফল প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। সে প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী তথা বর্তমান প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট জো বাইডেন আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পরাজিত হলেও হয়তো হোয়াইট হাউস ছাড়তে রাজি হবেন না ট্রাম্প।

এখন অবশ্য এই পরিস্থিতির অনেকটাই আর জল্পনাভিত্তিক অনুমান নয়। শনিবার জিতে গিয়েছেন বাইডেন, প্রত্যাশামাফিক এই ফলাফলে ভোটার-কারচুপির অভিযোগে ট্রাম্প-ও তা মানতে রাজি হননি। এর পরের প্রশ্ন তাই একটিই, তিনি যদি হোয়াইট হাউস না ছাড়েন তা হলে কী করা যেতে পারে? বাইডেনের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু বেটস অবশ্য শুক্রবার বলেছিলেন, ‘হোয়াইট হাউস থেকে অনুপ্রবেশকারীদের সরানোর ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসন সিদ্ধহস্ত।’ মেজাজে আগ্রাসন স্পষ্ট। কিন্তু সেনা কি তাতে সাহায্য করবে? পরিষ্কার নয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের মোকাবিলার জন্য তৈরি হচ্ছেন বাইডেন।

মার্কিন বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও কোনও প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি না হলে তাকে কী ভাবে সরানো হবে তা নিয়ে স্পষ্ট করে সংবিধানে কিছু বলা নেই। ফলে তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। অন্য অংশের ধারণা, হোয়াইট হাউস ছাড়ার জন্য দলই ট্রাম্পকে চাপ দেবে। ফলে আখেরে তিনি তা ছেড়ে দেবেনই। তবে সেক্ষেত্রে আরও একটি সমস্যা হতে পারে তার। হোয়াইট হাউসের এক প্রাক্তন কর্মীর দাবি, সেখান থেকে বেরোনোর পর মুহূর্তেই মেলানিয়া ডিভোর্স দেবেন ট্রাম্পকে। ওই কর্মীর মতে, যত ক্ষণ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিক ভাবে পদে বহাল, তত ক্ষণ ডিভোর্স দিতে গেলে ‘শাস্তি’ পেতে হতে পারে মেলানিয়াকে। আপাতত তাই ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ত্যাগের অপেক্ষায় তিনি। সূত্র: টিওআই।

পাঠকের মতামত: