কক্সবাজার, শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১

নোয়াখালীতে পাচারকালে ১০ টাকা মূল্যের চাল জব্দ, ডিলার পলাতক

নোয়াখালী সদর উপজেলায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ছয় বস্তা চাল আটক করেছে সাধারণ জনগণ। এ ঘটনার পর চালের ডিলার পলাতক রয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে আন্ডারচর ইউনিয়নের সোনাপুর-বাংলাবাজার সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম সরদার।

জানা যায়, চাল বহনকারী রিকশার চালককে আটক করা হলেও ঘটনায় সম্পৃক্ততা না পেয়ে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ডিলার মোসলেহ উদ্দিনকে ধরা যায়নি।

ইউএনও আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারদের মাধ্যমে ১০ টাকা মূল্যে হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিলি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী একজন সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে (ট্যাগ অফিসার) নির্দিষ্ট স্থানে প্রকাশ্যে এ চাল বিলি করার কথা।

তিনি আরও জানান, আন্ডারচর ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলার মোসলেহ উদ্দিন তার অনুকূলে খাদ্য বিভাগ থেকে বরাদ্দকৃত চাল স্থানীয় বাংলা বাজারে বিলি করার কথা ছিল। কিন্তু ভোরে তার গুদাম থেকে চাল বের করে রিকশায় অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন চালগুলো আটক করে। এ সময় রিকশাচালককে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ডিলার মোসলেহ উদ্দিন পালিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সালেহ উদ্দিন ও খাদ্য পরিদর্শক আনিসুর রহমানকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সালেহ উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর ডিলার মোসলেহ উদ্দিন পলাতক। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে চালগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাদায়ের করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও যুবলীগ নেতা মোসলেহ উদ্দিন হতদরিদ্র কার্ডধারীদের না দিয়ে প্রতি বস্তা চাল ৭’শ থেকে ৮’শ টাকা দরে কালো বাজারে বিক্রি করে আসছে। ভোর রাতে তার গুদামের চাল সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে স্থানীয় লোকজন ওই ডিলারের বাড়ি ঘেরাও করলে মোসলেহ উদ্দিন পালিয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে সদর উপজেলার ৫১জন ডিলারের মধ্যে বেশিরভাগ ডিলার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে নানাভাবে অনিয়ম করে যাচ্ছে। হতদরিদ্রের তালিকায় সরকারি চাকুরীজীবি ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নামও রয়েছে।

পাঠকের মতামত: