কক্সবাজার, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪

নো ম্যানস ল্যান্ডের রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তে নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ দলটিকে বাংলাদেশে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। গত শনিবার রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ওই দলে প্রায় ৫ হাজার সদস্য রয়েছেন। মিয়ানমারের পার্শ্ববর্তী বান্দরবান জেলার কাছে নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন তারা। নো ম্যানস ল্যান্ডে একসঙ্গে পাঁচ বছর ধরে এতো লোকের অবস্থান বিশ্বে নজিরবিহীন৷

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, এই মাসের শুরুর দিকে সশস্ত্র সংঘর্ষের সময় বেশিরভাগ আশ্রয়কেন্দ্র পুড়ে যায়। এই ঘটনায় বিশেষ করে বাংলাদেশের নিরাপত্তার স্বার্থে নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

অবশ্য শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর বলেছেন, আমাদের কমিটি হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়া এই লোকদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু তাদের স্থানান্তর বা আশ্রয়ের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে, নিরাপত্তা ইস্যুতে বর্তমান ওই অবস্থানে আর কোন নতুন ক্যাম্প থাকবে না। তাদের অন্য কোথাও স্থানান্তর করা উচিত। সেটি কোথায় হবে সে জায়গা এখনও ঠিক হয়নি। কমিটিতে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন, পুলিশ, গোয়েন্দা এবং বান্দরবান জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনিরের মতে, আমরা সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গ্রুপগুলির মধ্যে সংঘর্ষের বেশ কয়েকটি ঘটনা লক্ষ্য করেছি, এটি এই লোকদের জীবনকে বিপন্ন করবে।যেহেতু তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে, মানবিক কারণে, তাদের এখানে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে আরব নিউজের প্রতবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গারা মূলত নিজ দেশে ফেরার ইচ্ছায় নো ম্যানস ল্যান্ডে থেকে যায়। কিন্তু মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এবং ২০১৯ সালে বাংলাদেশ আর রোহিঙ্গাদের গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে তারা আটকা পড়ে। অস্থায়ী তাঁবুতেই এতোদিন ধরে তারা সেখানে বসবাস করে আসছিল বলে বলা হয়।

বাংলাদেশ ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের মানবিক সহায়তা দিয়েছে। যাদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক দমনের সময় পালিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ জার্নাল

পাঠকের মতামত: