কক্সবাজার, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০

পুলিশ ভাল করলেও খারাপ, তবুও পুলিশে এসেছি প্রশংসার আশায়!

একজন গরীব লোক প্রতিদিন প্রভুর উদ্দ্যেশ্যে একটা করে চিঠি লিখতো আর বেলুনে বেধে আকাশে উড়িয়ে দিতো। চিঠিতে লিখত, হে প্রভু, আমি খুব অভাবে আছি, আমাকে এক লক্ষ টাকা দাও। টাকাগুলো দিয়ে ব‍্যবসা করে লাভ করবো। তারপর তোমার টাকা তোমার পথে ব‍্যয় করে ঋণ শোধ করবো।

লোকটির বাড়ি ছিলো স্থানীয় থানার পাশেই, চিঠিসহ বেলুন গুলো প্রতিদিন উড়ে গিয়ে পড়তো থানার মধ্যে। থানার পুলিশরা প্রতিদিন লোকটির চিঠি পড়তো আর নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতো। তারা ভাবল লোকটার মনে হয় টাকাটার খুব প্রয়োজন, তাই বিষয়টি ওসি সাহেবকে জানালো। ওসি সাহেব‌ও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নিজে কিছু টাকা দিলেন এবং থানার সকল পুলিশ সদস‍্যকে বললেন সাধ‍্যমতো সাহায্য করতে। তখন থানার সকল পুলিশ মিলে টাকা তুলতে লাগলো। খুব চেষ্টা করে থানার সবাই মিলে পঞ্চাশ হাজার টাকা যোগাড় করে সুন্দর একটা খামের মধ্যে টাকাগুলো সহ একজন পুলিশকে পাঠানো হলো লোকটার কাছে। তারপর পুলিশটি লোকটাকে পঞ্চাশ হাজার টাকার প‍্যাকেটটি দিয়ে বললো আপনার ডাকে মহান সৃষ্টিকর্তা খুশি হয়ে এই টাকা পাঠিয়েছে।

লোকটি টাকাগুলো পেয়ে অনেক খুশি হলেন। খুশিতে পুলিশের লোকটিকে ধন্যবাদ দিতেও ভুলে গেলেন। কোন রকম পুলিশকে বিদায় দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে টাকা গুনতে লাগলো। গুনে দেখলো মাত্র পঞ্চাশ হাজার টাকা। কিছুতেই কিছু বিশ্বাস করতে পারলো না মহান প্রভু এভাবে অর্ধেক টাকা দিতে পারে। মনের দুঃখে পরের দিন লোকটা আবার একটা চিঠি লিখে বেলুনসহ উড়িয়ে দিল।
এই চিঠিটিও থানার মধ্যে এসে পড়লো। সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে চিঠিটি পড়ার জন্য ভিড় করলো।

পুলিশ স্বাভাবিকভাবে আশা করছে অবশ্যই লোকটি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানিয়েছে। কিন্তু চিঠি পড়ে সবাই আশাহত হলো। চিঠিতে লেখা ছিল- প্রভু তুমি জেনে শুনে এতো বড় ভুল করলে? টাকাটা যখন দিলেই, পুলিশের মাধ্যমে দিলে কেনো? শালারা অর্ধেক টাকা মেরে দিয়ে বাকি অর্ধেক টাকা আমাকে দিয়েছে!!!

লেখক
মোহাম্মদ খালেক 
এসআই, উখিয়া থানা।

পাঠকের মতামত: