কক্সবাজার, রোববার, ৬ ডিসেম্বর ২০২০

‘বউয়ের গয়না বিক্রি করে টিকেট কিনেছি, কিন্তু প্রবাস কর্মস্থলে যেতে পারিনি’

 মাইদুর রহমান রুবেল::

করোনা পরীক্ষায় চড়া ফি দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না প্রবাসীরা। ভুল রিপোর্ট আর বিলম্বে ফল পাওয়ায় অনেকের চাকরিই ঝুঁকিতে পড়েছে। ফ্লাইট মিস করায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের। করোনা পরীক্ষার ফি সবার জন্য একশ টাকা হলেও প্রবাসীদের জন্য কেন দেড় হাজার টাকা, তা নিয়ে বিব্রত খোদ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী।

প্রবাসে কর্মস্থলে ফেরার জন্য একেক জায়গা থেকে একেক রকম করোনা রিপোর্ট পেয়ে দিশেহারা এক রেমিটেন্স যোদ্ধা। তিনি বলেন, আমি আমার বউ এর গয়না বিক্রি করে টিকেট কিনেছি। কিন্তু এই উল্টা পাল্টা রিপোর্টের জন্য আমি যেতে পারিনি। কথাগুলো বলতে বলতে এই রেমিটেন্স যোদ্ধা কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। সম্প্রতি সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের মেয়েও পড়েন ভুল রিপোর্টের বিড়ম্বনায়। শুরুতে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা ফি সাড়ে তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে তা কমানো হলেও, এখন তা দেড় হাজার টাকা। অথচ আর সবাই একশ টাকায় করোনা পরীক্ষা করতে পারছেন। বিদেশে যাওয়ার জন্য করোনা পরীক্ষা করতে ব্যক্তিরা বলেন, আমার কাছে থেকে ৩৫শ ৩৫ টাকা নিয়েছে। তবে টাকার পরিমাণ অনেক বেশি। এত টাকা দিয়ে করোনা পরীক্ষা করতে আমাদের জন্য অনেক কষ্টকর। আমার মতে প্রবাসী কর্মীদের জন্য একটা ছাড় দেওয়া উচিৎ ছিল। করোনার শুরু থেকে বেকার প্রবাসীরা। পকেটে নাই টাকা, যেতে পারব কিনা তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ মনে করেন রেমিটেন্সযোদ্ধাদের জন্য এই ফি কমানো উচিত। তিনি বলেন, প্রবাসীদের এই রিপোর্ট একটু তাড়াতাড়ি প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে হয়তো একটা আর্জেন্ট ফি নিতে পারে। কিন্ত ১৫’শ টাকা থাকতে পারে না।  রেমিটেন্স হতো তাদেরই টাকা কিন্ত বাংলাদেশে এসে যেহেতু জমা হয় এতে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবারই এক রেট থাকা  উচিৎ।প্রবাসীদের ভোগান্তি দূর করতে মন্ত্রণালয় সব রকম চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী

পাঠকের মতামত: