কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০

বন্যায় ৫ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকার ক্ষতি: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

বন্যায় দেশের ৩৩ জেলায় বিভিন্ন খাতে মোট ৫ হাজার ৯৭২ কোটি ৭৪ লাখ ৬২ হাজার ৭৬ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির চিত্র অনুযায়ী মন্ত্রণালয়গুলো পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেবে। দেশের ৩৩ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে, সব মিলিয়ে ৪০ জেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৯৮ বন্যার তুলনায় এবার বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম। ওই সময় প্রায় ৪০ জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবার ৩৩ জেলা। একইভাবে সে সময় প্রায় ৫০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়, এবার প্লাবিত হয়েছে ৩০ ভাগ এলাকা। সেই সময় বন্যা স্থায়ী হয়েছিল ৬৯ দিন, এবার ৪৬ দিন।

দীর্ঘমেয়াদি বন্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা রিলিফ বেইজ জায়গা থেকে বের হয়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে চেষ্টা করছি। এজন্য নদী শাসন, নদীভাঙন রোধে নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। করা হয়েছে বেশ কিছু পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, সুরমা, মাতামুহুরি নদী শাসনের ইতোমধ্যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে পদ্মা, যমুনা নদী শাসনেরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া ডেল্টা প্ল্যানেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বন্যার বিষয়টি। ফলে আমরা অচিরেই একটি ভালো জায়গা যাবো। আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি বন্যা সহনীয় রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে আমাদের পর্যাপ্ত চাল মজুত আছে। প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টনের মতো। ৮ লাখ হলেই আমাদের আর দরকার হয় না। তারপরও আমরা আরও মজুতের চেষ্টা করছি।

তিনি জানান, করোনার কথা চিন্তা করে ঈদের আগে আমরা প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ পরিবারকে চাল দিয়েছি। এছাড়া পর্যাপ্ত শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য, ঢেউটিন সরবরাহ করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত: