কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২০

বাইশারী-নারিচবুনিয়া সড়কে পাথর বোঝাই ট্রাক চলাচলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধ্বস

মুফিজুর রহমান, নাইক্ষ্যংছড়ি :

পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী-নারিচবুনিয়ার গ্রামীন সড়কে পাথর বোঝাই ৩০ টনের ভারী যানবাহন চলাচল করায় প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ধ্বসে এবং ফেটে গিয়ে এক বছরের মাথায় শেষ হয়ে গেল কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বাইশারী-নারিচ বুনিয়ার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি।

গ্রামীন সড়কের উপর দিয়ে এত ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন ধ্বংস হয়ে পড়েছে।

গত বছর খানেক আগে কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ কাজ শেষ করা হয় এলজিইডি নাইক্ষ্যংছড়ির অধীনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একই সড়কের আবারও বাকী কাজ শেষ করতে ভারী যানবাহন দিয়ে মালামাল বহন করায় সড়কটি ধ্বসে যায় এবং ফেটে চৌচির হয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসায় তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা ও জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবগত করেন।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক বাইশারী-নারিচবুনিয়া ভায়া বাকখালী সড়কটি। গত এক বছর আগে সড়কটি কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন করা হয়। কিন্তু সড়কের বাকি অংশ কার্পেটিং করতে ভারী যানবাহন নিয়ে পাথর ও অন্যান্য মালামাল বহন করায় ৩ কিলোমিটার কার্পেটিং সড়ক বিভিন্ন জায়গায় ধ্বস ও ফাটল দেখা দেয়। জনতার রোষানলে ৩০ টনের ১টি ট্রাক বটতলী বাজােেরে আনলোড করতে বাধ্য হয়। জানা গেছে, ঠিকাদার ভূট্টো ও মনসুর এই ভারী যানবাহন নিয়ে মালামাল এনে পুরো সড়কটি ধংস করে ফেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল জব্বার, মোঃ হাবিব সহ অনেকেই জানান তাদের নিষেধ করা সত্বেও কর্নপাত করেনা। তবে অন্যান্য ঠিকাদারেরা ভারী যানবাহনের মালামাল বাজারের পাশে খালাস করে হালকা যানবাহনে করে গন্ত্যব্যে নয়ে যায়।

ঠিকাদার জসিম উদ্দিন বলেন,সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল করে সড়ক ধ্বসে যাওয়া এবং ফেটে যাওয়ার বিষয়টি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকতার্ বরাবরে অবগত করেছেন। কারন এর দায়ভার আমরা নিতে পারবনা।

তবে ঠিকাদার ভুট্টো ও মনসুরের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে বলেন, সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে যানবাহন চলাচলের জন্য। ভারী যানবাহনের বিষয়ে জানতে চাইলে, ভারী যানবাহন নিয়ে মালামাল পরিবহন করেননি বলে অস্বীকার করেন। হালকা ১০ টনের ট্রাক নিয়ে মালামাল পরিবহন করেছেন বলে জানান।
বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আলম বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ভারী যানবাহন চলাচল করে ধ্বংস করে দেয়ায় তিনিও উদ্বিগ্ন। বিষয়টি কতর্ৃপক্ষের নিকট অবগত করবেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি এলজিইডি উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, তিনি সরজমিন পরিদর্শন করেছেন এবং উর্ধতন কতর্ৃপক্ষের নিকট জানিয়েছেন। উক্ত সড়কটি পুনরায় নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে বান্দরবান এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমানের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, সড়ক ধ্বসে যাওয়া এবং ফেটে যাওয়ার বিষয়টি অবগত রয়েছেন। ঠিকাদার ঐ জায়গা গুলো পুনরায় ঠিক করে দিবেন। গ্রামীন সড়কে ১০ টনের অধিক মালামাল নিয়ে যানবাহন চলাচল করা যাবেনা বলেও তিনি জানান।

এলাকাবাসী সড়কের উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা সহ দ্রুত মেরামতের দাবি জানান।

পাঠকের মতামত: