কক্সবাজার, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

বিশ্বে কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে। সেটা হলো, এখন রাজনৈতিক কূটনীতি না, অর্থনৈতিক কূটনীতি চলছে। ব্যবসা-বাণিজ্য করে, সবার সঙ্গে মিলে কীভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা যায়, একে অপরকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, একে অপরের সহযোগিতার মাধ্যমে কীভাবে শান্তি আনা যায়, সেভাবে এখন আমাদের কূটনীতি চালাতে হবে। আর এই দায়িত্ব পালনের জন্য দরকার সঠিক প্রশিক্ষণ।

শুক্রবার ফরেন সার্ভিস একাডেমির নতুন ভবন উদ্বোধন, ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুর জাতিসংঘে বাংলায় বক্তব্য প্রদান এবং দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের হাত থেকে সবাই মুক্তি পাক এবং সবাই আগের মতো কাজ করুক এটা আমরা চাই। ১৯৯৬ সালে তিনি ক্ষমতায় এসে কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি উপলব্ধি করে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমি গড়ার জন্য তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদকে নির্দেশ দেয়ার পরে সুগন্ধায় সেটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪৬ বছর আগে জাতির পিতা যা বলে গিয়েছিলেন এখনও সেগুলো বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য এবং সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। ন্যায়বিচার, দরিদ্রতা থেকে মুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় তিনি উল্লেখ করেছেন। আমরা তার দেখানো পররাষ্ট্রনীতি—সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরীতা নয় এটা অনুসরণ করে চলেছি।বঙ্গবন্ধুর কূটনীতির সাফল্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ওই সময় জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, ওআইসিসহ অনেক বহুপক্ষীয় সংস্থার সদস্য হয়েছে।অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে তার ভাষণে ২৭টি বিষয়ের ওপরে কথা বলেছেন, যা এখনও প্রযোজ্য। জাতিসংঘে সদস্যপদ পাওয়া সহজ ছিল না। এজন্য আমাদের দুই বছর কষ্ট করতে হয়েছে।সরকার বর্তমানে অর্থনৈতিক ও পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি অনুসরণ করছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ, বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি আহরণ, বিদেশে বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিদেশে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান—এ পাঁচটি বিষয় কূটনীতিতে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির রেক্টর সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকার ও জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পোও বক্তব্য রাখেন।

পাঠকের মতামত: