কক্সবাজার, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

ব্যবসায়ীর মামলা

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা নেন লিয়াকত, ফাঁসান ১৩ মামলায়

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অপহরণের মামলা করেছেন চট্টগ্রামের একজন ব্যবসায়ী।

আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন মামলাটি করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি-উত্তর) উপকমিশনারকে (ডিসি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় লিয়াকত আলীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং চারজন ব্যবসায়ী। আসামিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপহরণ ও ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অভিযোগ তদন্ত করবেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

লিয়াকত আলী ছাড়া মামলার আসামি অন্য দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হান্নান ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার এসআই মো. নজরুল। এ ছাড়া চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এস এম সাহাবুদ্দীন, বিষ্ণুপদ পালিত, কাজল কান্তি বৈদ্য ও জিয়াউর রহমানকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদীর আইনজীবী জুয়েল দাশ দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাদী প্রথমে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন। এর মধ্যে সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার, সদরঘাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী, উখিয়া থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি মর্জিনা আক্তারও ছিলেন। কিন্তু আদালত ছয়জনকে বাদ দিয়ে বাকি সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন।’

‘তবে আদালত আদেশে উল্লেখ করেছেন, তদন্তে যদি তাঁদের (বাদ যাওয়াদের) কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধেও অপরাধ আমলে নেওয়া হবে’, যোগ করেন আইনজীবী।

মামলার বাদী জসিম উদ্দিন আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভয়ে এত দিন মামলা করতে পারিনি। লিয়াকত জেলে যাওয়ার পর কিছুটা সাহস হয়েছে। তা ছাড়া পুলিশের দেওয়া একের পর এক মামলা চালাতে গিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার বিরুদ্ধে ১৩টি মিথ্যা মামলা হয় লিয়াকতের সাহায্যে। ১০টিতে খালাস পাইছি। এখনো বাকি তিনটি চলতেছে।’

মামলার আরজিতে বলা হয়, ২০১৪ সালে ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষের করা মামলার প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বাদী জসিমের কাছে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ চান লিয়াকত। ওই সময় লিয়াকত চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় এসআই পদে কর্মরত ছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে চুরির মামলার এক আসামির বোনকে বাদী সাজিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় জসিমের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা দেন। ওই মামলায় জসিম যেদিন জামিন পান সেদিন লিয়াকত তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে পুরো শহর ঘুরান। তখন ক্রসফায়ারের কথা বলে আবার টাকা দাবি করেন। বাদী নিজেকে বাঁচাতে প্রথমে ৫০ হাজার ও পরে আরো দুই লাখ টাকা দেন। এ ঘটনায় অন্য আসামিরা লিয়াকতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এস এম সাহাবুদ্দীন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মামলা করার আগে ব্যবসায়ী জসিম গত ১৩ আগস্ট সিএমপির পুলিশ কমিশনারের কাছে লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

লিয়াকত আলী বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় রিমান্ডে আছেন।

পাঠকের মতামত: