কক্সবাজার, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১

বড় বড় কোম্পানির নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করত কিশোর

১৪ বছর বয়সে প্রতারণায় হাতেখড়ি। বয়স এখন ২০। মার্কিন নাগরিক দাবি করা অষ্টম শ্রেণি পাস দিপু নিজেকে কখনো এনএসআই পরিচালক, কখনো অন্য কোনো সংস্থার বড় কর্মকর্তা, কখনোবা গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। এত অল্প বয়সে নানা উপায়ে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা। তাকে রাজধানী থেকে গ্রেফতারের পর পুলিশ বলছে, প্রতারণার এমন কোনো কৌশল নেই যা সে রপ্ত করেনি।

পোশাক তৈরিকারক প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রপের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার খবর জানাতে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠানের আয়োজনকারী এই ব্যক্তির নাম আশরাফুল ইসলাম দিপু। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি আরো জানান, গুলশান ওয়েল ফেয়ার ক্লাবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার বিভাগেও একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

নোমান গ্রুপের হেড অব প্রটোকল মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘নোমান গ্রুপে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আমরা কাউকে নিয়োগ দিইনি আর আমাদের এই ধরনের কোনো পরিকল্পনাও ছিল না এবং আমরা জানিও না।’
অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। অভিযুক্ত দিপুকে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করা হয়। বেরিয়ে আসতে থাকে তার প্রতারণার অভিনব সব কৌশল।
পুলিশ বলছে, মাত্র ১৪ বছর বয়সে দ্বীপ জেলা ভোলার উপকূলীয় অঞ্চলে দাতা সংস্থার ত্রাণের অর্থ আত্মসাতের মধ্য দিয়ে প্রতারণায় হাতেখড়ি তার। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক প্রতারণার নিপুণ ছক রপ্ত করতে থাকেন তিনি।
দিপু চলাফেরা করেন দামি ব্রান্ডের ভাড়া করা গাড়িতে। গাড়ির চালকরাও তার প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পাননি।
এক ভিকটিম বলেন, ‘আমি একটি ভাড়ায় একটি প্রাডো গাড়ি চালায়। উনি মাঝে মাঝে আমার গাড়ি নিয়ে যায়। কিন্তু ভাড়া দেয় না। আমাকে বলে আমার বউকে উনার কোম্পানিতে চাকরি দেবে।’
জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসআইয়ে তিনি পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন মর্মে ভুয়া গেজেট তৈরি করে অনেকের সঙ্গে প্রতারণার তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। পুলিশের এক সদস্যকে এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা।
করোনায় অসহায় মানুষকে সহায়তার নামে মানবিক টিম নামে একটি সংগঠন তৈরি করে প্রবাসীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। তার নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের চেক দেখিয়ে করেন প্রতারণা।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, এত অল্প বয়সে তার যে অনলাইনে বিচরণ, অনলাইনের প্রতারণার যে বুদ্ধি তার মাথায় আসছে এটা আসলে হতবাক হওয়ার মতো। তার প্রতারণা অনেক গ্র্যাজুয়েটকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
তার কাছ থেকে আরো বিস্তারিত জানতে রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।

পাঠকের মতামত: